প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আগামী ১ অক্টোবর পরশুরামে মুহুরি নদীর তীরে ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার একটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মুহুরি-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় নদী ও জলাধার পুনঃখনন, বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর রক্ষা এবং সেচ অবকাঠামো সংস্কারের কাজ করা হবে বলে জানা যায়।
পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরি নদীর তীরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সফরের পরবর্তী ধাপে তিনি ফুলগাজীতে যাবেন এবং সেখানে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
ফেনীর তিন উপজেলা—পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়ার সরকারি দপ্তরে স্থাপিত ৯৬২.৫ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা উদ্বোধনের কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর সফরে।
ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিকেলে আয়োজিত কর্মসূচিতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা এবং দরিদ্র শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষের সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ তুলে ধরা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলগুলোকে রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট—তিনটি জোনে ভাগ করা হচ্ছে। পরশুরাম ও ফুলগাজীতে দুই হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্বে থাকবেন।
এদিকে জনসভাস্থলে মঞ্চ নির্মাণ, উদ্বোধনী ফলক স্থাপন, স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে। পরশুরাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরির প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে স্থানীয়দের প্রত্যাশাও বাড়ছে। বন্যা ও নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, লালপুলে আন্ডারপাস নির্মাণ, কর্মসংস্থান এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ চান তাঁরা।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।