
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় এক গৃহবধূকে গলাকেটে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (রাত) আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের গণিরচর গ্রামে নিজ বাড়ির টিউবওয়েল পাড় থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত শহিদা বেগম (২৬) ওই গ্রামের আজিজুল ইসলামের স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় শহিদা বেগম চার বছর বয়সী ছোট মেয়ে সুমিকে নিয়ে বাড়িতে ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় তার স্বামী আজিজুল ইসলাম বড় মেয়ে সুমাইয়া (৯) কে সঙ্গে নিয়ে গ্রামের পাশের কালারচর বাজারে নিজের চায়ের দোকানে যান।
নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান জানান, রাত আনুমানিক ৮টার দিকে হঠাৎ করে শহিদা বেগমের বাড়ি থেকে ছোট শিশুর চিৎকার ও গোঙানির শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। পরে তারা দ্রুত বাড়ির টিউবওয়েল পাড়ে গিয়ে শহিদা বেগমকে গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তখন আশপাশে কাউকে দেখা যায়নি।
কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় পুলিশ রাত প্রায় ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শহিদা বেগম ভাতের চাল ধোয়ার জন্য টিউবওয়েল পাড়ে গেলে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলায় আঘাত করে। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তার একটি হাতও কেটে যায়।
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে এবং কারা জড়িত, তা জানতে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ছোট দুই সন্তানকে ঘিরে পরিবারের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গণিরচর গ্রাম। পুলিশ বলছে, দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
