ডিজেলের অভাবে চলছে না নৌকা, বিপাকে শারীয়তপুরের হাজারো জেলে
শরীয়তপুরের নদী তীরবর্তী জনপদে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মৎস্যজীবীদের জীবিকায়। জেলার নড়িয়া উপজেলার চরমোহন গ্রামের অভিজ্ঞ জেলে সিরাজুল ইসলাম ঢালী, যিনি প্রায় চার দশক ধরে নদীতে মাছ ধরে সংসার চালিয়ে আসছেন, তিনিও এখন অসহায়। ডিজেলের অভাবে টানা সাত দিন ধরে নৌকা নিয়ে নদীতে যেতে পারছেন না তিনি। দীর্ঘ জীবনে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনো হননি বলে জানান এই জেলে।
শুধু সিরাজুল ইসলাম নন, জেলার হাজারো জেলে একই দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন। নদীতীরবর্তী হাটবাজারগুলোতে ডিজেলের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে নদীতে নামা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনে মাছ ধরতে গেলেও তাতে খরচ বাড়ছে, আয় কমছে। ফলে পুরো মৎস্য খাত কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
জেলেদের অভিযোগ, যেখানে আগে সহজেই জ্বালানি পাওয়া যেত, সেখানে এখন লিটার প্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি দিয়ে ডিজেল কিনতে হচ্ছে। এতে করে মাছ ধরার খরচ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ, কিন্তু সেই অনুযায়ী আয় বাড়ছে না। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন তারা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা ও মেঘনা নদীতে প্রায় ৩৩ হাজার জেলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। বর্তমানে জেলার অন্তত ১২ হাজার ইঞ্জিনচালিত নৌকা প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ হাজার লিটার ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক সংকটে এই চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না।
গোসাইরহাট উপজেলার জেলে আবু সুফিয়ান জানান, তিনি পাঁচজন শ্রমিক নিয়ে নৌকায় মাছ ধরেন। কিন্তু তেলের অভাবে কয়েক দিন ধরে নদীতেই আটকে আছেন। সুরেশ্বর বাজারে দুই লিটার করে ডিজেল পাওয়া গেলেও তা দিয়ে কয়েক ঘণ্টার বেশি মাছ ধরা সম্ভব নয়। তাও আবার লিটারপ্রতি ১৬০ টাকা দামে কিনতে হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাঁদপুরের ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় তারা জেলেদের চাহিদা মেটাতে পারছেন না। যদিও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান, ঈদের আগ পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও বর্তমানে সংকট দেখা দিয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশা করা হচ্ছে।
এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু জেলেদের জীবিকাই নয়, দেশের মাছের বাজার ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
