এক মানবিক বিপ্লবের অমর প্রতীক ছিল.মুগ্ধ

Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

পানি লাগবে পানি-এটা যেন আজও শোনা যায়,এটা শুনলে মনে পড়ে যায়  ব্রাক্ষণবাড়িয়ার এক তরুণ নাম তার মুগ্ধ. 

মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ—তিনি ছিলেন একজন তরুণ, যার হৃদয়ে জ্বলত মানবতার আলো, যার স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ, আর যার জীবন ছিল সংগ্রাম ও সেবার অসাধারণ গল্প। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব, যাকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা হিসেবে গণ্য করা হয়, সেখানে মুগ্ধের শাহাদাত শুধু একটি ঘটনা নয়, একটি জাগরণ, একটি বিপ্লবের প্রতীক। তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গর্বিত সন্তান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র, একজন দক্ষ ফ্রিল্যান্সার, ফুটবলার, গিটারিস্ট, ভ্রমণপিপাসু, এবং সর্বোপরি একজন মানুষ, যিনি জীবনের শেষ মুহূর্তেও বলে গেছেন, “পানি লাগবে ভাই?”—এই প্রশ্নটি আজ বাংলাদেশের রাজপথে প্রতিধ্বনিত হয়, প্রতিটি তরুণের হৃদয়ে আগুন জ্বালায়। মুগ্ধের গল্প শুধু একজন ব্যক্তির নয়, এটি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন, সংগ্রাম, আর আত্মত্যাগের জীবন্ত ইতিহাস।

১৯৯৮ সালের ৯ অক্টোবর, হেমন্তের এক শান্ত সকালে, ঢাকার উত্তরা মডেল টাউনে জন্ম নেন মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। তাঁর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার একজন স্বাস্থ্য পরিদর্শক, একজন সাধারণ মানুষ, যিনি তাঁর সন্তানদের মধ্যে সততা ও মানবিক মূল্যবোধের বীজ বপন করেছিলেন। মা শাহানা চৌধুরী ছিলেন একজন গৃহিণী, যিনি তাঁর তিন ছেলের জন্য সবসময় ছিলেন একটি নির্ভরযোগ্য আশ্রয়। মুগ্ধ তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়। তাঁর বড় ভাই মীর ইফতেখার রহমান দীপ্ত এবং যমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। মুগ্ধ ও স্নিগ্ধ ছিলেন যমজ, তবে তাঁদের চরিত্র ছিল আলাদা। যেখানে মুগ্ধ ছিলেন স্পষ্টবাদী, আপোষহীন, আর সবসময় সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো একজন তরুণ, স্নিগ্ধ ছিলেন শান্ত, সংযত, কিন্তু তাঁদের দুজনের মধ্যেই ছিল একটি অদম্য আগ্রহ—মানুষের জন্য কিছু করার, সমাজকে বদলানোর।

মুগ্ধের শৈশব ছিল রঙিন, প্রাণচঞ্চল। তিনি ছোটবেলা থেকেই কৌতূহলী ছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্রামের বাড়িতে তিনি প্রায়ই সময় কাটাতেন। সেখানকার মাটির গন্ধ, গাছের ছায়া, আর গ্রামীণ জীবন তাঁর মধ্যে সরলতার একটি গভীর ছাপ ফেলেছিল। তিনি প্রকৃতির সাথে মিশে যেতেন, গ্রামের মানুষের সাথে গল্প করতেন, তাঁদের জীবনের গল্প শুনতেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছিল, জীবনের মূল্য শুধু সাফল্যে নয়, মানুষের সেবায়। তাঁর বাবা-মা শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিতেন। মুগ্ধের বাবা প্রায়ই বলতেন, “শিক্ষা তোমাকে মানুষ করবে, কিন্তু মানবতা তোমাকে মহৎ করবে।” এই কথা মুগ্ধের জীবনের দর্শন হয়ে ওঠে।

মুগ্ধের শিক্ষাজীবন শুরু হয় উত্তরার ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটিতে। এখানে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি গণিত ও বিজ্ঞানে আগ্রহী ছিলেন। তাঁর শিক্ষকরা বলতেন, মুগ্ধের প্রশ্ন করার ধরন ছিল আলাদা। তিনি কখনো পঠিত বিষয় মুখস্থ করতেন না, বরং বুঝতে চাইতেন। তাঁর কৌতূহল তাঁকে শ্রেণির শীর্ষে রাখত। পরবর্তীতে তিনি উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি হন। এইচএসসি পরীক্ষায় তিনি উৎকৃষ্ট ফলাফল করেন। স্কুল জীবনে তিনি শুধু পড়াশোনায় নয়, ফুটবল, ক্রিকেট, এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। তিনি ছিলেন স্কুলের ফুটবল দলের একজন তারকা খেলোয়াড়। তাঁর সতীর্থরা বলেন, “মুগ্ধ মাঠে খেলতেন যেন জীবনের সবকিছু দিয়ে।”

২০১৯ সালে মুগ্ধ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে ভর্তি হন। তিনি ছিলেন ১৯তম ব্যাচের একজন মেধাবী ছাত্র। গণিতের জটিল সমীকরণ তাঁর কাছে ছিল একটি ধাঁধা, যা সমাধান করতে তিনি আনন্দ পেতেন। তাঁর শিক্ষক অধ্যাপক মো. আজমল হুদা বলেন, “মুগ্ধ শুধু ছাত্র ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন চিন্তক। তাঁর প্রশ্নগুলো আমাদের ভাবাত।” ২০২৩ সালে তিনি গণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি ঢাকায় ফিরে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-তে এমবিএ প্রোগ্রামে ভর্তি হন। তাঁর স্বপ্ন ছিল বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়া। তিনি আইইএলটিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যেন একদিন বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়তে পারেন এবং দেশে ফিরে উন্নয়নের কাজে অবদান রাখেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুগ্ধ ছিলেন ক্যাম্পাসের প্রাণ। তিনি শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠান-২০২৩-এর কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ছিল অসাধারণ। তিনি শিক্ষার্থীদের একত্রিত করতেন, তাঁদের স্বপ্নের প্রতি উৎসাহ দিতেন। তাঁর এক সহপাঠী বলেন, “মুগ্ধের হাসি ছিল সংক্রামক। তিনি কখনো কাউকে ছোট করে দেখতেন না।” তিনি বাংলাদেশ স্কাউটসের ইউনিট লিডার ছিলেন এবং তাঁর নেতৃত্বে ‘ন্যাশনাল সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। তাঁর স্কাউটিংয়ের অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছিল শৃঙ্খলা, দায়িত্ব, আর পরোপকার।

মুগ্ধ ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি ফুটবল মাঠে ছিলেন একজন নিপুণ খেলোয়াড়। তাঁর বন্ধুরা বলেন, “মুগ্ধ মাঠে খেলতেন যেন প্রতিটি গোল জীবনের লক্ষ্য।” তিনি গিটার ও ইউকুলেলে বাজাতেন, বিটবক্সিংয়ে দক্ষ ছিলেন। তাঁর গানের গলা ছিল মায়াবী। তিনি প্রায়ই ক্যাম্পাসের সন্ধ্যায় গিটার হাতে গান গাইতেন, আর সহপাঠীরা তাঁর চারপাশে জড়ো হতো। তিনি ভ্রমণপিপাসু ছিলেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা ঘুরে দেখা। তিনি তাঁর প্রিয় বাইক, যার নাম ছিল ‘বাম্বুল বি’, নিয়ে ৩৪টি জেলা ঘুরেছিলেন। তিনি একটি ব্লগিং পেজ চালু করেছিলেন, যেখানে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, আর সংস্কৃতি নিয়ে লিখতেন। তাঁর ভাই দীপ্ত বলেন, “মুগ্ধ চাইত বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ তাঁদের দেশের গল্প জানুক।”

মুগ্ধ ছিলেন একজন সফল ফ্রিল্যান্সার। তিনি ফাইভারে কাজ করতেন, যেখানে তিনি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে বিশেষজ্ঞ ছিলেন। তিনি এক হাজারের বেশি প্রজেক্ট সম্পন্ন করেছিলেন, এবং তাঁর মাসিক আয় ছিল ২,০০০ থেকে ৩,০০০ মার্কিন ডলার। ফাইভার তাঁর মৃত্যুর পর একটি শোকবার্তায় বলে, “মুগ্ধ ছিলেন একজন প্রতিভাবান মার্কেটার, যিনি তাঁর কাজ দিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্লায়েন্টদের হৃদয় জয় করেছিলেন।” তাঁর ফ্রিল্যান্সিং প্রোফাইলের স্ক্রিনশট সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যা তাঁর আত্মনির্ভরশীলতার প্রমাণ। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, একজন তরুণও নিজের মেধা আর পরিশ্রম দিয়ে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিতে পারে।

মুগ্ধের জীবনের একটি বড় অংশ ছিল তাঁর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি বিশ্বাস করতেন, সমাজের বৈষম্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব। ২০১৯ সালে বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তিনি আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ান। এই কাজের জন্য তিনি ‘ন্যাশনাল সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’ পান। তাঁর বন্ধু নাইমুর রহমান আশিক বলেন, “মুগ্ধ কখনো পিছপা হতেন না। তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন মানুষের সাহায্য করা মানে একটি জীবন বাঁচানো।”

২০২৪ সালের জুন মাসে বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলন ধীরে ধীরে বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। উত্তরা ছিল এই আন্দোলনের একটি প্রাণকেন্দ্র। মুগ্ধ, যিনি তখন বিইউপিতে এমবিএ করছিলেন, এই আন্দোলনে সক্রিয় হন। তিনি রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলেন না, তাঁর লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের সাহায্য করা। তিনি তাঁর যমজ ভাই স্নিগ্ধের সাথে মিলে আন্দোলনকারীদের জন্য পানি, বিস্কুট, আর শুকনো খাবার বিতরণ করতেন। তাঁর বন্ধু জাকিরুল ইসলাম বলেন, “মুগ্ধ বলতেন, ‘আমরা যদি এখন না দাঁড়াই, তাহলে কে দাঁড়াবে?’”

১৮ জুলাই ২০২৪, উত্তরার আজমপুরে আন্দোলন তুঙ্গে। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র হয়। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন রাস্তায় মুগ্ধ ছুটে বেড়াচ্ছিলেন পানির বোতল হাতে। একটি ভিডিও ফুটেজে তাঁকে দেখা যায়, তিনি চিৎকার করে বলছেন, “পানি লাগবে কারও? পানি!” তাঁর মুখে ছিল হাসি, হাতে ছিল বিস্কুটের প্যাকেট। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে তিনি আন্দোলনকারীদের সেবা দিচ্ছিলেন। ঠিক ২৮ মিনিট পর, সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে, একটি গুলি তাঁর কপালে বিদ্ধ হয়। তিনি রক্তাক্ত হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। তাঁর বন্ধু জাকির চিৎকার করে বলেন, “মুগ্ধ গুলি খাইসে!” তাঁকে তাৎক্ষণিক উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মুগ্ধের মৃত্যু ছিল আকস্মিক, কিন্তু তাঁর প্রতিবাদ ছিল অটল। তিনি মৃত্যুর ৯ মিনিট আগে একটি ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন, যেখানে তিনি সবাইকে গুলির বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর শেষ বার্তা ছিল, “সাবধান, গুলি চলছে!” তাঁর রক্তমাখা আইডি কার্ড, যা তাঁর গলায় ঝুলছিল, যেন বলছিল একটি অকথিত গল্প—একজন তরুণের আত্মত্যাগের গল্প।

মুগ্ধের মৃত্যু নিয়ে প্রাথমিকভাবে কিছু বিভ্রান্তি ছড়ায়। সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করেন, মুগ্ধ ও স্নিগ্ধ একই ব্যক্তি, মুগ্ধ নাকি মারাই যাননি। এই গুজব ছড়িয়েছিল আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ। তবে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার বাংলাদেশ এবং সরকারের প্রেস উইং ফ্যাক্ট-চেক পেজ এই দাবিকে মিথ্যা বলে প্রমাণ করে। মুগ্ধ ও স্নিগ্ধের একসাথে তোলা ছবি, ভিডিও, এবং তাঁদের পরিবারের বিবৃতি এই সত্যতা নিশ্চিত করে। এই গুজব ছিল একটি জঘন্য প্রচেষ্টা, যা জুলাই বিপ্লবকে হেয় করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছিল।

মুগ্ধের শাহাদাত জুলাই বিপ্লবকে নতুন মাত্রা দেয়। তাঁর মৃত্যু তরুণ প্রজন্মের মধ্যে একটি ঝড় তুলে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর স্মরণে ১৮ জুলাই ‘শহীদ মীর মুগ্ধ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের নামকরণ করা হয় ‘শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ’। বিইউপির ব্যবসা অনুষদ ভবনের নাম হয় ‘শহীদ মীর মুগ্ধ টাওয়ার’। উত্তরার বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চ এখন ‘মুগ্ধ মঞ্চ’ নামে পরিচিত। ২০২৫ সালের মে মাসে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ‘শহীদ মীর মুগ্ধ পার্ক’ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। তাঁর বাসার গলির নাম হয় ‘মীর মুগ্ধ সড়ক’।

মুগ্ধের যমজ ভাই স্নিগ্ধ ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান নির্বাহী হিসেবে কাজ করছেন। এই ফাউন্ডেশন আন্দোলনে শহীদদের স্মৃতি রক্ষা ও হতাহতদের সহায়তার জন্য কাজ করছে। স্নিগ্ধ বলেন, “মুগ্ধ চলে গেছে, কিন্তু তার স্বপ্ন আমাদের মধ্যে বেঁচে আছে। আমরা তার বিচার চাই।” মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “শেষবার যখন দেখা হয়েছিল, মুগ্ধ হেসে বলেছিল, ‘আম্মু, যাই।’ আমি জানতাম না, এটাই শেষ দেখা।”

মুগ্ধের গল্প শুধু তাঁর পরিবারের নয়, এটি বাংলাদেশের প্রতিটি তরুণের গল্প। তাঁর জীবন নিয়ে কবিতা, গান, প্রবন্ধ, আর প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে। তাঁর স্লোগান “পানি লাগবে ভাই?” জুলাই বিপ্লবের প্রতীক হয়ে উঠেছে। পঞ্চম শ্রেণির ‘আমার বাংলা বই’ পাঠ্যপুস্তকে তাঁর গল্প স্থান পেয়েছে। শিল্পীরা তাঁর মুখচ্ছবি ক্যানভাসে এঁকেছেন। তাঁর গল্প নতুন প্রজন্মকে বলছে, সাহস আর মানবতা দিয়ে একটি জাতি বদলানো যায়।

মুগ্ধের জীবন ছিল একটি জীবন্ত বিপ্লব। তিনি শিখিয়েছেন, মানবতা মানে বিপদের মুখেও অন্যের জন্য ভাবা। আত্মনির্ভরতা মানে নিজের পথ নিজে তৈরি করা। প্রতিবাদ মানে অহিংসভাবে বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। তাঁর শাহাদাত বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। তিনি ছিলেন একজন তরুণ, যিনি মাত্র ২৬ বছরে পৃথিবীকে দেখিয়ে গেছেন, জীবন লম্বা হওয়ার চেয়ে মহৎ হওয়া বেশি জরুরি।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ