রাশিয়ান ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচের চেলসি ফুটবল ক্লাব বিক্রির পর যুক্তরাজ্যের একটি ব্যাংকে আটকে থাকা অর্থ থেকে সুদে অন্তত ১৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড আয় হয়েছে। নতুন হিসাবের তথ্যে এটি সামনে আসার পর এক আর্থিক বিশ্লেষক বিদ্রূপাত্মকভাবে উক্ত অর্থ সংরক্ষণকারী কোম্পানিটিকে “বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক ফুটবল ব্যবসায়” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
আব্রামোভিচের মালিকানাধীন ফোর্ডস্টাম কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২২ সালের মে মাসে ক্লাবের মালিকানা হস্তান্তরের পর বিক্রির অর্থ ২.৩ বিলিয়ন পাউন্ড থেকে বেড়ে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে। ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন আব্রামোভিচ। সে সময় তিনি এই অর্থ ইউক্রেন যুদ্ধের শিকার ব্যক্তিদের দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
তবে অর্থ কীভাবে এবং কোথায় খরচ করা হবে তা নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে আইনি জটিলতা চলায় এই ফান্ড এখনও মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রথম দফায় ব্যাংকে রাখা ২.৩৫ বিলিয়ন পাউন্ড থেকে দ্রুত গতিতে সুদ পেতে শুরু করে ফোর্ডস্টাম। হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রায় ৬৩ মিলিয়ন পাউন্ড এবং ২০২৪ সালে ১১৪ মিলিয়ন পাউন্ড আয় হয়। ২০২৪ সালের জুনের পরের হিসাব প্রকাশ না হওয়ায় বর্তমানে এই অর্থ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ম্যাককার্থি ডেনিং নামের একটি আইন সংস্থার স্পোর্টস বিভাগের প্রধান ও ফুটবল অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ স্টিফান বরসন রসিকতা করে বলেন, সুদের আয় বিবেচনা করলে এটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক ফুটবল-সম্পর্কিত ব্যবসা। তবে বিক্রির অর্থ বিতরণে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে সে বিষয়ে কোনো নতুন তথ্য এতে পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইউকে সরকারের সঙ্গে বিরোধের কারণে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন পাউন্ডের এই অর্থ বার্কলেস ব্যাংকের একটি হিসাবে অবরুদ্ধ রয়েছে। আব্রামোভিচ ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে ফান্ড সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয় আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাজ্য সরকার চায় সম্পূর্ণ অর্থ ইউক্রেনের মানবতাবাদী কাজে ব্যয় হোক, তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আব্রামোভিচ বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন কোনো ফাউন্ডেশনকে অর্থ প্রদান করতে চান।
যুক্তরাজ্য সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, চেলসি বিক্রির টাকা ইউক্রেনে চরম ভোগান্তির শিকার মানুষের সহায়তায় ব্যবহার হওয়াই তাঁদের প্রধান অগ্রাধিকার। আব্রামোভিচ তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ না করায় প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
এর পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও জটিল করে তুলেছে জার্সি দ্বীপে চলমান একটি আলাদা অপরাধ তদন্ত। সেখানে আব্রামোভিচের মূল সম্পদের উৎস নিয়ে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অনুসন্ধান চালাচ্ছে প্রসিকিউটররা। বিশেষ করে ২০০৫ সালে রাশিয়ার সরকারের কাছে ১৩ বিলিয়ন ডলারে তেল ও গ্যাস কোম্পানি সিবনেফ্ট বিক্রির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাছাড়া, অফশোর কোম্পানির নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চেলসি পরিচালনার জন্য আব্রামোভিচের ক্যাম্বারলি ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি যে ১.৪ বিলিয়ন পাউন্ড ঋণ দিয়েছিল, তা চূড়ান্ত অনুদান থেকে বাদ যাবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফুটবল অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ কিয়ারান ম্যাগাইয়ারের মতে, আব্রামোভিচ পুরো বিক্রির অর্থ নাকি শুধু নিট মুনাফা দান করবেন, তা এখনও অস্পষ্ট। পাশাপাশি, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের ট্রেজারির লাইসেন্স ছাড়া অফশোর কোম্পানিতে অর্থ ফেরত দেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই।
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।