
স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার কদমতলী থানাধীন পূর্ব জুরাইনের আদর্শ শড়কে শাহাবুদ্দিন (৩৫) নামের এক যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, এলাকায় মাদকের কারবারের বিরোধিতা করায় তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে কদমতলীর আদর্শ সড়ক এলাকায় শাহাবুদ্দিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। রাত ১০টার দিকে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। রাত ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে বলে ঘোষণা করেন।
নিহত শাহাবুদ্দিন কদমতলীর শিশু কবরস্থান এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার ৬ ও ৭ বছর বয়সী দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে, যারা এই ঘটনায় পিতৃহারা হলো।
হত্যাকাণ্ডের পর আজ সকালে র্যাব অভিযান চালিয়ে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নারগিস ও শহিদুল নামের দুইজনকে আটক করেছে। এছাড়া কদমতলী থানা পুলিশ সাল্টু রফিক নামের আরও একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, শাহাবুদ্দিন এলাকায় মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। এই বিরোধের জেরে মাদক কারবারিরা তাকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। ঘাতকদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে সাধারণ মানুষ এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, জুরাইন এলাকায় মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। তারা বলেন, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মাদকের করাল গ্রাসে আরও অনেক জীবন শেষ হয়ে যাবে। আমরা আমাদের এলাকা এবং দেশকে মাদকমুক্ত দেখতে চাই। কদমতলী থানা পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
