নোয়াখালীতে নিখোঁজের রহস্য উদঘাটন, দুই বছর পর পুকুর থেকে মা-ছেলের কঙ্কাল উদ্ধার
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে নিখোঁজের ঘটনার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক ভয়াবহ জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য। প্রায় দুই বছর পর বাড়ির পুকুর খনন করে উদ্ধার করা হয়েছে মা ও শিশুপুত্রের কঙ্কাল। এ ঘটনায় নিহত নারীর দুই সৎ ছেলে ও এক নাতিকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।
নিহতরা হলেন কমলা বেগম (৩২) ও তার ৯ বছর বয়সী ছেলে নোমান। কমলা ছিলেন আবুল কালাম আজাদের দ্বিতীয় স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি সৎ সন্তানদের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করতেন। তবে সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে।
তদন্ত সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কমলা ও তার শিশুপুত্রকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ দুটি বিবস্ত্র অবস্থায় বাড়ির পুকুরে মাটিচাপা দিয়ে গুম করা হয়। ঘটনার দুই মাস পর, ২০২৪ সালের ১০ মার্চ সৎ ছেলে জিয়াউর রহমান সাগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে দাবি করেন, তার সৎ মা নিখোঁজ।
তবে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে কমলার বোন রহিমা বেগম আদালতে পিটিশন মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা সংস্থা। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গ্রেপ্তার করা হয় সাগর, রাজু ও নাতি টিপুকে।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার বাড়ির পুকুরে ভেকু মেশিন দিয়ে খনন চালিয়ে মা-ছেলের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
