পশ্চিমবঙ্গে মোদির জন্মদিন ও কর্মজীবন উদ্‌যাপনে ২০ দিনের নজিরবিহীন আয়োজন, বিতর্ক ও সমালোচনা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৫তম জন্মদিন ও প্রশাসক হিসেবে ২৫ বছরের কর্মজীবন পালনে পশ্চিমবঙ্গে ২০ দিনব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’সহ নানা নজিরবিহীন কর্মসূচির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে স্কুল শিক্ষার্থী ও সরকারি সুবিধাভোগীদের এতে যুক্ত করা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে মোদির জন্মদিন ও কর্মজীবন উদ্‌যাপনে ২০ দিনের নজিরবিহীন আয়োজন, বিতর্ক ও সমালোচনা
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৫তম জন্মদিন এবং প্রশাসক হিসেবে তাঁর ২৫ বছরের কর্মজীবন উদ্‌যাপনে পশ্চিমবঙ্গে ২০ দিনব্যাপী বহুমুখী আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন থেকে শুরু করে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২০ দিনজুড়ে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি পালন করা হবে। অতীতে পশ্চিমবঙ্গে এ ধরনের বিশাল আয়োজন হয়নি বলে জানা গেছে। সম্প্রতি আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাজ্যের শীর্ষ কর্মকর্তা, মন্ত্রী ও বিধায়কদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এসব কর্মসূচির দিকনির্দেশনা দেন।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর সূর্যাস্তের পর রাজ্যজুড়ে ‘আশীর্বাদো কি দিয়া’ বা আশীর্বাদের প্রদীপ জ্বালানোর মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হবে। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই আলো জ্বালানোর বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। নবান্ন, রাজ্য সচিবালয়, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ও কালীঘাট মন্দিরের মতো ঐতিহ্যপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রদীপ জ্বালানো হবে। প্রতিটি বিধানসভায় কমপক্ষে ২৫ হাজার করে রাজ্যজুড়ে মোট ৭০ লাখের বেশি প্রদীপ জ্বালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রধান অনুষ্ঠানটি গঙ্গার তীরে অনুষ্ঠিত হবে।

এই কর্মযজ্ঞে রাজ্যের ৮০ হাজারের বেশি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়কে যুক্ত করা হয়েছে। জেলা স্কুল পরিদর্শকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের কাছে হস্তান্তর করতে। তালিকা অনুযায়ী পড়ুয়াদের মাথাপিছু একটি প্রদীপ দেওয়া হবে, যার জন্য দুই টাকা করে বরাদ্দ করেছে প্রশাসন। ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ঠিক সাতটায় শিক্ষার্থীরা নিজের বাড়িতে সপরিবার প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাবে এবং ২০৪৭ সালে বিকশিত ভারতের জন্য সংকল্প গ্রহণ করবে। এ ছাড়া যেসব অভিভাবক সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদেরও এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিবিধ প্রতিযোগিতা আয়োজিত হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়াদের জন্য ‘স্বপ্নের ভারত’ ভাবনার ভিত্তিতে অঙ্কন, কুইজ, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ‘নমো সেবা নাটক’ মঞ্চস্থ করার নির্দেশ দিয়েছে স্কুলশিক্ষা দপ্তর। এ ছাড়া ‘বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা’ কর্মসূচির অধীন পশ্চিমবঙ্গ থেকে ২৫ জন প্রতিনিধিকে উত্তর প্রদেশে পাঠানো হবে এবং উত্তর প্রদেশ থেকেও সমসংখ্যক শিক্ষার্থী এ রাজ্যে এসে বিভিন্ন বিষয়ে কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক মিডিয়ায় প্রচার করবে।

আয়োজনের অংশ হিসেবে ক্রীড়া দপ্তরের অধীন ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’, ‘সেবা সেতু অভিযান’, ‘আলপনা প্রতিযোগিতা’ এবং আইআইটি খড়গপুর বা আইআইএম কলকাতার সহায়তায় ‘রাষ্ট্রীয় ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যুবসমাজকে যুক্ত করতে মোটরবাইক ও সাইকেল মিছিল, সাফাই অভিযান এবং রক্তদান কর্মসূচি পরিচালিত হবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করে ১০৮ মিটারজুড়ে ‘ভারত মণ্ডল’ রঙ্গোলি আঁকার পরিকল্পনাও রয়েছে। কেন্দ্র সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর প্রচার নিশ্চিতে মোট ১৩টি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম ‘জনসেবা মহাকুম্ভ’। সমগ্র প্রকল্প সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর।

আয়োজনের অন্তিম দিন ৭ অক্টোবরে রাজ্যের প্রতিটি জেলা সদরে সরকারি অনুষ্ঠান হবে এবং সব জেলার উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী, যা ইন্টারনেটে প্রচারিত হবে। এ ছাড়া কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে একটি কেন্দ্রীয় সমাপ্তি অনুষ্ঠানেরও পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, নন্দীগ্রাম বা রেজিনগরের মতো উপনির্বাচন হতে যাওয়া বিধানসভা এলাকাগুলোতে নির্বাচন কমিশনের আদর্শ আচরণবিধি মেনে কোনো সরকারি কর্মসূচি হবে না। অবশ্য সেসব এলাকার মানুষ ব্যক্তিগত বা সামাজিক স্তরে অংশ নিতে পারবেন।

তবে রাজ্য সরকারের এই বিশাল আয়োজন ঘিরে ইতিবাচক উদ্দীপনার পাশাপাশি কড়া প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল অভিযোগ করেছেন, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণ স্কুলপড়ুয়া ও অভিভাবকদের এক রাজনৈতিক বা সামাজিক সমীক্ষায় শামিল করা হচ্ছে এবং সরকারি সুবিধার উপভোক্তাদের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে বাধ্য করা অনুচিত। অন্যদিকে, দুর্গাপূজার মুখে এমন আয়োজনে বাজারে কেনাকাটা ও খুচরো বিক্রি কমবে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ কলকাতার গরিয়াহাট বাজার সমিতির এক নেতা। সরকারের ক্ষমতার চার মাসের মাথায় সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নতির পথ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

অথেন্টিক সোর্স: প্রথম আলো
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।
পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ