বাংলাদেশ ইস্যু: বয়কটের শঙ্কা থাকলে অলিম্পিক আয়োজক হতে পারবে না ভারত

বাংলাদেশ ইস্যু: বয়কটের শঙ্কা থাকলে অলিম্পিক আয়োজক হতে পারবে না ভারত
বাংলাদেশ ইস্যু: বয়কটের শঙ্কা থাকলে অলিম্পিক আয়োজক হতে পারবে না ভারত
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

বাংলাদেশ পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ভারতের ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের বিডে প্রভাব ফেলতে পারে- কারণ খেলাধুলায় রাজনীতিকরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। খবর গার্ডিয়ানের

আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ গত সপ্তাহে সরে দাঁড়ায়। তাদের গ্রুপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার অনুরোধ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) প্রত্যাখ্যান করার পরই এ সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। এর পেছনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কলকাতা নাইট রাইডার্স আইপিএল দল থেকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।

গত এক মাসে দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতি হয়েছে। উত্তর বাংলাদেশে এক হিন্দু ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও সড়ক সংঘর্ষের ঘটনা পরিস্থিতি জটিল করে তোলে। কলকাতা কর্তৃপক্ষ দাবি করে, তারা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা মেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে পাকিস্তানও সংহতি প্রকাশ করে বিশ্বকাপ বয়কটের কথা ভাবছে বলে খবর, যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে এ সপ্তাহান্তে।

বাংলাদেশের ম্যাচ ভারতে রাখার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আইসিসি নিলেও, বিসিসিআই আইসিসির ওপর প্রভাব খাটিয়ে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুমতি না দিতে ভূমিকা রেখেছে বলে জানা গেছে। আইসিসি নিজেদের স্বাধীন সংস্থা দাবি করলেও অতীতে ভারতের অনুকূলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নজির রয়েছে- যেমন ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সম্প্রচার ও আর্থিক কারণ দেখিয়ে ভারতকে গায়ানায় সেমিফাইনালের নিশ্চয়তা দেওয়া।

আইসিসিতে বিসিসিআইয়ের প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ভারত সরকারের সঙ্গেও তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ আগে বিসিসিআইয়ের সচিব ছিলেন, আর তার বাবা অমিত শাহ নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্তও আগে ভারতের জিওস্টার মিডিয়া গ্রুপে শীর্ষ পদে ছিলেন, যারা আইসিসি ইভেন্টগুলোর একচেটিয়া সম্প্রচার স্বত্বধারী।

এই রাজনৈতিক বিতর্ক ভারতের জন্য বিব্রতকর সময়ে সামনে এলো। দিল্লিকে ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক নিশ্চিত করার পর এখন তারা আহমেদাবাদে ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের জন্য বিড করছে। এ ক্ষেত্রে কাতারকে সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে আইওসির অবস্থান আইসিসির তুলনায় অনেক কঠোর। একটি সূত্রের ভাষ্য, অন্য দেশগুলো বয়কট করতে পারে- এমন আশঙ্কা থাকলে কোনোভাবেই ভারতকে অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হবে না। অলিম্পিক চার্টার অনুযায়ী ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে পরিচালিত হতে হয় এবং গেমসে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মত প্রকাশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

আইওসির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির উদাহরণ হিসেবে সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হচ্ছে। গত অক্টোবরে জাকার্তায় বিশ্ব জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ইসরায়েলি দলকে ভিসা না দেওয়ায় ভবিষ্যৎ অলিম্পিক আয়োজন নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সংলাপ স্থগিত করে আইওসি। ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের দৌড়েও তখন ছিটকে পড়ে দেশটি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রাজনীতি তাই ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজক নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ১৯০০ সালের পর প্রথমবার ক্রিকেট ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ফিরছে এবং ২০৩২ ব্রিসবেন অলিম্পিকেও থাকবে। ভারতীয় বাজারকে আকৃষ্ট করতেই আইওসি ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত করেছে, তবে যেকোনো মূল্যে নয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত সীমান্ত পেরিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় পাল্টা হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সিরিজও এখন বন্ধ।

আইওসি সূত্রের মতে, বিশ্বাসযোগ্য অলিম্পিক আয়োজক হিসেবে বিবেচিত হতে হলে ভারতকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সুস্পষ্ট অগ্রগতি দেখাতে হবে।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ