আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১:৫০ অপরাহ্ন
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স জানিয়েছে যে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ ডিজিটাল সম্পদ একটি সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। এই ঘটনাকে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ক্রিপ্টো হ্যাকিং হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে, ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের প্রায় অর্ধেক ইত্যেমধ্যেই ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করা সম্ভব হয়েছে, তবে একটি বড় অংশ এখনও হ্যাকারদের দখলে রয়েছে। বাইন্যান্স জানিয়েছে, তারা গ্রাহকদের সব ধরনের ক্ষতি পূরণ করবে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানের তথ্যানুসারে বাইন্যান্স জানায়, একজন প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মাধ্যমে আক্রমণকারীরা অননুমোদিতভাবে অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ পায়। এই ঘটনাটি ২০২৫ সালে বাইবিট এক্সচেঞ্জে হওয়া ১৫০০ কোটি ডলারের রেকর্ড হ্যাকিংকেও ছাড়িয়ে গেছে।
দুটি অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান এই হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকিং ইউনিট ‘ট্রেডারট্রেইটর’-এর হাত রয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত তদন্তকারী সংস্থা টিআরএম ল্যাবস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই হামলার ধরণ উত্তর কোরিয়ার পূর্ববর্তী সাইবার হামলার সঙ্গে মিলে যায়। সংস্থাটির নীতিবিষয়ক বিশ্ব প্রধান অরি রেডবোর্ড একে ক্রিপ্টো শিল্পের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুতর মুহূর্ত বলে বর্ণনা করেছেন।
অনুরূপভাবে অন্য একটি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালিসিসও একই সন্দেহ প্রকাশ করেছে। তাদের গবেষণা প্রধান এরিক জারডিন সব ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ প্রচুর সম্পদের উপস্থিতির কারণে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলো হ্যাকারদের মূল লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়ে বাইন্যান্স সরাসরি মন্তব্য না করলেও জানিয়েছে যে, তারা অপরাধীদের শনাক্ত করতে ও আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসীদের জন্য ব্যবহৃত তাদের পৃথক প্ল্যাটফর্ম ‘বাইন্যান্স ডট ইউএস’ এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
বাইন্যান্সের সহ-প্রধান নির্বাহী ই হে জানিয়েছেন, সার্বিক নিরাপত্তার খাতিরে বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটি থেকে অর্থ উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পর আবার লেনদেন স্বাভাবিক করা হবে। পাশাপাশি অন্য যেসব কোম্পানি সম্পদ অবরুদ্ধ করতে সাহায্য করেছে তাদের প্রতি তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম টেদার ও সার্কেল পৃথকভাবে জানিয়েছে যে, তারা বাইন্যান্সের ঘটনা সংক্রান্ত যথাক্রমে ১৬০ কোটি এবং ৮০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ ফ্রিজ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইনান্সিয়ালও চুরি হওয়া তহবিল ফ্রিজ করার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে কয়েনবেস জানিয়েছে, তারা এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
এই হ্যাকিংয়ের খবরের পর বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল মুদ্রার বাজারে পতন দেখা দিয়েছে। বিটকয়েনের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে গেছে এবং ইথেরিয়াম ও সোলানার মতো অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় ক্রিপ্টোকারেন্সির দামও বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।