বাবার খোদাই করা পথে ছেলের হাত ধরে প্রাণ ফিরছে ‘জিয়া খালের’

বাবার খোদাই করা পথে ছেলের হাত ধরে প্রাণ ফিরছে ‘জিয়া খালের’
বাবার খোদাই করা পথে ছেলের হাত ধরে প্রাণ ফিরছে ‘জিয়া খালের’
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

যশোরের শার্শা উপজেলার সেই ঐতিহাসিক মেঠো পথ আর খালের পাড় আজ এক অনন্য ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রইল। দীর্ঘ পাঁচ দশক আগে যে মাটিতে কোদাল চালিয়ে দেশের প্রথম খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, ঠিক সেই একই স্থানে সোমবার দুপুরে পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন তাঁরই সুযোগ্য পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি কোদাল হাতে মাটি কেটে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ কয়েক দশক পর শার্শার উলশী-যদুনাথপুর খালের পাড়ে পাশাপাশি শোভা পাচ্ছে বাবা ও ছেলের নামের দুটি ঐতিহাসিক উদ্বোধনী ফলক।

১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দেশ গড়ার এক মহা-পরিকল্পনা নিয়ে জিয়াউর রহমান এই উলশী-যদুনাথপুর খাল খননের ডাক দিয়েছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে দেশজুড়ে ‘জিয়া খাল’ নামে ব্যাপক পরিচিতি পায়। সময়ের বিবর্তনে এবং সংস্কারের অভাবে খালটি মৃতপ্রায় হয়ে পড়লেও স্থানীয় মানুষের স্মৃতিতে তা ছিল অমলিন।

আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে সেই প্রকল্পের পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এলাকাটিতে বইছে উৎসবের আমেজ। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে কেবল একটি জলাশয় নয়, বরং গ্রামীণ জনপদের কয়েক দশকের এক আবেগ ও ঐতিহ্য নতুন করে প্রাণ ফিরে পেল।

প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি পুনঃখননের ফলে ওই অঞ্চলের কৃষি ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সেচ সুবিধার প্রসারে এই প্রকল্প প্রাণভোমরা হিসেবে কাজ করবে।

খালের পাড়ে সংরক্ষিত জিয়াউর রহমানের পুরনো ফলকটির পাশেই যখন প্রধানমন্ত্রী নতুন ফলক উন্মোচন করছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের চোখেমুখে ছিল এক বিশেষ প্রাপ্তির আনন্দ। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত উন্নয়নের এই ধারাকে তারা দেখছেন আগামীর স্বনির্ভর বাংলাদেশের এক শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে।

উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে এই কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, আত্মনির্ভরশীল হওয়ার যে স্বপ্ন শহীদ জিয়া দেখেছিলেন, তার বাস্তব রূপ দিতেই এই ‘জিয়া খাল’ সংস্কারের উদ্যোগ। খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ এবং মৎস্য চাষের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে যে নতুন গতির সঞ্চার হবে, তা কেবল শার্শা নয় বরং পুরো দেশের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল হয়ে থাকবে। ইতিহাসের বাঁকে দাঁড়িয়ে থাকা এই উলশী-যদুনাথপুর খাল এখন কেবল পানি প্রবাহের পথ নয়, বরং উন্নয়নের দীর্ঘ পথযাত্রায় বাবা ও ছেলের সেতুবন্ধনের এক জীবন্ত স্মারক।


পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ