ব্যবসা ডেস্ক: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ন
যুক্তরাজ্যে ব্যাংকগুলোর ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা হলে দেশটির বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ ব্যাংক জেপি মরগানের প্রধান নির্বাহী জেমি ডাইমন। আগামী ২৮ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের নতুন সরকারের প্রথম বাজেট পেশের কথা রয়েছে। এই বাজেটকে সামনে রেখেই দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন এই ওয়াল স্ট্রিট ধনকুবের।
সূত্র মতে, জেমি ডাইমন বুধবার গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম এবং যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর জন হিলির সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান যে, ব্যাংক খাতের ওপর করের বোঝা বাড়ানো হলে তা যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। চ্যান্সেলর জন হিলি আগামী ২৮ অক্টোবরের বাজেটে ব্যাংক ও জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত কর বা উইন্ডফল ট্যাক্স বসাতে পারেন বলে জোর জল্পনা চলছে।
যুক্তরাজ্যে ব্যাংকগুলোর ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের বিরুদ্ধে জেমি ডাইমনের দীর্ঘদিনের অবস্থান রয়েছে। ২০০৮ সালের বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দার সময় যুক্তরাজ্য সরকার বেশ কয়েকটি বড় ব্যাংককে অর্থ সহায়তা দিয়ে বাঁচিয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই দেশটির ব্যাংক খাতের ওপর বাড়তি কর চাপানো হয়। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের সাধারণ করের হার ২৫ শতাংশ হলেও ব্যাংকগুলোকে ২৮ শতাংশ হারে কর্পোরেট কর দিতে হয়। এছাড়া তাদের ব্যালেন্স শিটের ওপর পৃথক সারচার্জ বা অতিরিক্ত শুল্ক পরিশোধ করতে হয়।
জেপি মরগানের প্রধান নির্বাহী এর আগেও সতর্ক করে বলেছিলেন যে, এসব কর আরও বাড়ানো হলে তা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। গত আগস্টে চ্যান্সেলর জন হিলির সঙ্গে এক ফোনালাপে ডাইমন উল্লেখ করেন, উচ্চ শুল্ক বা কর কর্মসংস্থানে আঘাত হানবে। এই প্রসঙ্গে তিনি নিউ ইয়র্ক সিটির কর কাঠামোর কারণে সেখানে আর্থিক খাতের চাকরি কমে যাওয়ার উদাহরণও টেনে আনেন।
এর আগেও যুক্তরাজ্যের কর বৃদ্ধি ঠেকানোর প্রচেষ্টায় সফল হয়েছিলেন ডাইমনসহ অন্যান্য ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ কর্তারা। জন হিলির পূর্বসূরি রেচেল রিভসের গত বছরের বাজেটের আগে তারা কার্যকর লবিং করেছিলেন। সেই সময় ডাইমন ম্যানহাটনে তাদের ব্যাংকের সদর দপ্তরে কিং চার্লসের জন্মদিনের এক অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান ব্যবসায়িক দূত বরুণ চন্দ্রকে আতিথ্য দিয়েছিলেন। এর কিছুদিন পরেই তিনি লন্ডনের ক্যানারি ওয়ার্ফ এলাকায় ৩ মিলিয়ন বর্গফুটের একটি বিশাল টাওয়ার তৈরির পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তবে সে সময়ও তিনি যুক্তরাজ্যে ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার শর্ত দিয়েছিলেন।
চলতি বছরের মে মাসে ডাইমন অবশ্য জানান যে, ৩ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের ওই টাওয়ার তৈরির পরিকল্পনা তিনি বাতিল করতে পারেন। প্রস্তাবিত এই ভবনটি জেপি মরগানের যুক্তরাজ্য সদর দফতর হিসেবে গড়ে তোলার কথা, যা দেশটিতে থাকা তাদের ২৩ হাজার কর্মচারীর অর্ধেকেরও বেশি মানুষকে কর্মসংস্থান জোগাত। তবে কিয়ার স্টারমারের জায়গায় যদি ব্যাংক-বিরোধী নতুন কোনো লেবার প্রধানমন্ত্রী আসতেন, তবে এই বিনিয়োগ বাতিল করার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিলেন তিনি।
এদিকে চ্যান্সেলর অ্যান্ডি বার্নহাম এ পর্যন্ত ব্যাংক কর নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (টিইউসি) এবং ক্যাম্পেইন গ্রুপ ‘পজিটিভ মানি’সহ বিভিন্ন পক্ষ থেকে ব্যাংকের ওপর অতিরিক্ত কর বসানোর দাবি জানানো হচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সংকট মোকাবেলায় ব্যাংকগুলোর ওপর এই বাড়তি কর থেকে পাওয়া অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে বলে তারা মনে করছে।
যুক্তরাজ্যের শীর্ষ চার ব্যাংক—এইচএসবিসি, ন্যাটওয়েস্ট, বার্কলেস এবং লয়েডস ব্যাংকিং গ্রুপ—গত পাঁচ বছরে সুদের হার বৃদ্ধির সুবাদে প্রায় ২০০ বিলিয়ন পাউন্ড কর-পূর্ববর্তী মুনাফা অর্জন করেছে। ইউকে ফাইন্যান্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে দেশটির ব্যাংকগুলো সব মিলিয়ে আনুমানিক ৪৩.৩ বিলিয়ন পাউন্ড কর হিসেবে সরকারকে পরিশোধ করেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন বাজেটে কর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।