ব্রিকস সম্মেলনে ৪৫ পৃষ্ঠার ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২০২৬’ সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার, সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা এবং নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্যের আহ্বান জানিয়ে ব্রিকস সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে ৪৫ পৃষ্ঠার ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২০২৬’ গ্রহণ করা হয়েছে।
ব্রিকস সম্মেলনে ৪৫ পৃষ্ঠার ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২০২৬’ সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ন

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে ৪৫ পৃষ্ঠার একটি যৌথ ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়েছে। স্বাগতিক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২০২৬’ শীর্ষক এই ঘোষণাপত্র অনুমোদনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। এই ঘোষণাপত্রে বৈশ্বিক বহু পাক্ষিক সংস্থাগুলোর আমূল পরিবর্তনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

ঘোষণাপত্রে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোগত পরিবর্তনসহ অন্যান্য বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সংস্কারের জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা প্রকাশ করার পাশাপাশি একপক্ষীয়ভাবে কারও ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে।

ইরান যুদ্ধের পটভূমিতে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্টি হওয়া চলমান সামরিক উত্তেজনার বিষয়টিতেও দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে। যৌথ ঘোষণায় বাণিজ্যভিত্তিক নৌপরিবহন ও নাবিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী দুই সদস্য চীন ও রাশিয়া জাতিসংঘ এবং নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের পাশাপাশি ব্রাজিলের আরও বড় ভূমিকা পালনের ইচ্ছার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। ঘোষণাপত্রে বিশেষভাবে এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নিরাপত্তা পরিষদে আরও বড় পরিসরে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের দাবি তোলা হয়।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে ব্রিকস। ঘোষণায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সংস্থাটির সদস্য দেশগুলোর নিজেদের ভেতরের বাণিজ্যিক লেনদেন মার্কিন ডলারের পরিবর্তে নিজ নিজ স্থানীয় মুদ্রায় পরিচালনা করা উচিত।

বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ঘোষণাপত্রে বলা হয়, বহুপক্ষীয় বাণিজ্যব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংকটপূর্ণ মোড়ে অবস্থান করছে। ঢালাওভাবে শুল্ক ও শুল্কবহির্ভূত বাধা তৈরি করা এবং পরিবেশ রক্ষার অজুহাতে সংরক্ষণবাদী নীতি গ্রহণের সমালোচনা করা হয়, যা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়মনীতির পরিপন্থী।

সংগঠনটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এ ধরনের বাণিজ্য-প্রতিবন্ধকতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও কমিয়ে দেওয়া, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থাকে ব্যাহত করা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়ায়। ফলে বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও তীব্র হতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সম্ভাবনা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্তব্য করে বলেন, পুরোনো আমলের প্রতিষ্ঠান দিয়ে আজকের পরিবর্তিত বিশ্বকে চালানো কখনোই সম্ভব নয়। সেই কারণে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, প্রযুক্তি এবং তা পরিচালনার বৈশ্বিক নীতিমালায় ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর সমান অংশগ্রহণ ও সংস্কার এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই নয়াদিল্লি ঘোষণা ব্রিকসের যৌথ অঙ্গীকারকে একটি পরিষ্কার ও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। এখন এই সিদ্ধান্তগুলোকে বাস্তবিক ফলাফলে রূপান্তর করাই সদস্য দেশগুলোর প্রধান দায়িত্ব।

অথেন্টিক সোর্স: প্রথম আলো
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।
পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ