আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ন
ইউক্রেনের ধারাবাহিক সাইবার ও ড্রোন হামলার মধ্যেই রাশিয়ার সাধারণ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করেছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি। স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়ায় এটিই ছিল প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন।
রুশ সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ৭১ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টি ১৪ শতাংশ এবং এলডিপিআর ৮ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পায়। বার্তা সংস্থা তাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় পার্লামেন্ট স্টেট ডুমার ৪৫০টি আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার পথে রয়েছে, যা তাদের সংবিধান সংশোধনের সুযোগ এনে দেবে।
এবারের নির্বাচনে ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধিতা করা কোনো রাজনৈতিক দলকে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ভোটের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের আদেশে যুদ্ধবিরোধী দল ‘ইয়াবলোকো পার্টি’র প্রতীক ব্যালট থেকে বাদ দেওয়া হয়। এছাড়া রাশিয়ার দখল ও সংযুক্ত করা ইউক্রেনের ভূখণ্ডগুলোতেও এই নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
ভোট গ্রহণের শেষ দিন অর্থাৎ রোববার ইউক্রেন মস্কো ও এর আশপাশের অঞ্চলে অভূতপূর্ব ড্রোন হামলা চালায়। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মস্কোয় এটিই ছিল কিয়েভের সবচেয়ে বড় হামলা। হামলায় প্রায় ১,৬০০টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে অন্তত ৪৫০টি ড্রোন সরাসরি রাজধানী মস্কোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান, দুটি পৃথক স্থানে হামলায় ৪৪ বছর বয়সী এক নারী ও এক বয়স্ক পুরুষসহ অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন এবং একটি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই দূরপাল্লার পাল্টা হামলার প্রশংসা করে একে অত্যন্ত প্রভাবশালী বলে অভিহিত করেছেন। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেলেনস্কির সঙ্গে টেলিফোন আলাপে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এই হামলার জবাবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কিয়েভের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে উচ্চ নির্ভুলতার সঙ্গে আক্রমণ আরও তীব্র করা হবে বলে জানানো হয়।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান এলা পামফিলোভা জানিয়েছেন, নির্বাচন চলাকালে ব্যাপক সাইবার হামলা চালানো হলেও তিন দিনব্যাপী এই ভোট গ্রহণ কার্যক্রম নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সরঞ্জাম ব্যবহার করে অত্যন্ত দক্ষ কোনো গোষ্ঠী এই সাইবার হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের উপস্থিতি ও ফলাফলের মধ্য দিয়ে ক্রেমলিন পুতিনের নীতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি জনগণের সমর্থনের প্রমাণ উপস্থাপন করতে চাইছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।