মিশিগান সেনেট নির্বাচন: সংবাদমাধ্যমের দ্বিমুখী নীতি ও রিপাবলিকান প্রার্থীর বিতর্কিত মিত্রের দিকে আঙুল

আমেরিকায় মিশিগান সেনেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডেমোক্র্যাট আব্দুল এল-সায়েদের সমর্থক হাসান পাইকারকে নিয়ে মূলধারার সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চললেও রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের বিতর্কিত ধর্মীয় দলের সদস্যকে নিয়ে দেখা যাচ্ছে নীরবতা।
মিশিগান সেনেট নির্বাচন: সংবাদমাধ্যমের দ্বিমুখী নীতি ও রিপাবলিকান প্রার্থীর বিতর্কিত মিত্রের দিকে আঙুল
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

ইসলাম ডেস্ক: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:২১ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান সেনেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ ও রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মধ্যকার এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মিডিয়া কভারেজে স্পষ্ট দ্বিমুখী নীতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত কয়েক মাস ধরে বামপন্থী টুইচ স্ট্রিমার হাসান পাইকারকে নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে, অথচ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের প্রচার দলে থাকা চরমপন্থী ধর্মীয় নেতার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চুপ রয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণাত্মক প্ল্যাটফর্ম ‘গ্রাউন্ড নিউজ’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে হাসান পাইকারকে কেন্দ্র করে অন্তত ২৪২টি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। দিনে গড়ে প্রায় তিনটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলেও পাইকার মিশিগানে বসবাস করেন না, কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না এবং তিনি আব্দুল এল-সায়েদের নির্বাচনী প্রচার দল বা ক্যাম্পেইনেরও অংশ নন। তা সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল-সায়েদকে বারবার পাইকারের বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে এবং জবাবদিহি করতে বলা হচ্ছে।

অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স কেবল একজন বিতর্কিত ব্যক্তির সঙ্গেই প্রচার চালাচ্ছেন না, বরং তার ক্যাম্পেইন মিশিগানের এক চরমপন্থী ধর্মীয় প্রচারককে দলের জ্যেষ্ঠ পদে স্থান দিয়েছে। ডেট্রয়েটের সাবেক গ্যাং লিডার ও ইভানজেলিকাল পাস্টর জুয়েল সিওয়েলকে রজার্স ক্যাম্পেইনের ‘ফেইথ লিডার্স ফর মাইক রজার্স’-এর সাত সদস্যের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় শপথ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখা এই পাস্টরের চরমপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি সর্বজনবিদিত।

পাস্টর জুয়েল সিওয়েল প্রকাশ্যে ইসলামকে একটি ‘বিজয়ী ধর্ম’ এবং ‘মৃত্যুর গোষ্ঠী’ (ডেথ কাল্ট) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদকে একজন ‘ইসলামিক জিহাদি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দাবি করেন যে, তিনি আমেরিকা জুড়ে ‘শরিয়া আইন’ চাপিয়ে দিতে চান। সিওয়েল বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, আমেরিকা কোনো মুসলিমদের জাতি নয়, এটি খ্রিস্টানদের জাতি। রিপাবলিকান প্রার্থীর সঙ্গে যুক্ত একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্বের মুখে এমন ইসলামফোবিয়া ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য সত্ত্বেও সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে বড় ধরনের কোনো আলোচনা বা সমালোচনা হয়নি।

বিতর্কের মাত্রা আরও বাড়ায় গত ১৮ আগস্ট ডিয়ারবর্ন সিটি কাউন্সিল মিটিংয়ে আয়োজিত ‘খ্রিস্টান ক্রুসেডার মার্চ’। এই সমাবেশের সহ-সংগঠক ছিলেন সিওয়েল এবং তার সাথে ছিলেন দূর-ডানপন্থী ইসলামবিদ্বেষী উস্কানিদাতা জেক ল্যাং। ল্যাং ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিল ঘটনায় প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে পুলিশকে আক্রমণের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন, যদিও পরে ট্রাম্পের কাছ থেকে তিনি ক্ষমা পান। এই ডিয়ারবর্ন সমাবেশে নব্য-নাৎসিরা সোয়স্তিকা পতাকা উড়িয়ে অংশগ্রহণ করে এবং সেখানে কে কেকে কে-র (KKK) প্রচারপত্র বিতরণের খবর পাওয়া যায়। ওই সমাবেশ থেকে পুলিশ ২২ জনকে গ্রেফতার করে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট কিংবা সিএনএনের মতো শীর্ষস্থানীয় মূলধারার মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে ২০২৬ সালে রজার্সের প্রচার দলের সদস্য সিওয়েলের নাম বা তার এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের খবর স্থান পায়নি। নিউ ইয়র্ক টাইমস ডিয়ারবর্নের সমাবেশ ও জেক ল্যাংয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রতিবেদন করলেও সেখানে সিওয়েল বা তার সাথে প্রার্থী মাইক রজার্সের রাজনৈতিক সম্পর্কের কোনো উল্লেখ করা হয়নি। অথচ রজার্স ও সিওয়েলের রাজনৈতিক সম্পর্ক ২০২৪ সালের সেনেট নির্বাচনের সময় থেকেই বিদ্যমান।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দুটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা প্রকাশ করে। প্রথমত, মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসলামফোবিয়া ও ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্যকে তুলনামূলক কম গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়, যেখানে ইসলামকে আক্রমণ করে মন্তব্য করলেও কোনো বড় সংবাদমাধ্যমে জবাবদিহি করতে হয় না। দ্বিতীয়ত, রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মার্কিন মিডিয়া সম্পূর্ণ আলাদা মানদণ্ড ব্যবহার করছে, যা পক্ষপাতমূলক ও দ্বিমুখী আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ।

সূত্র: The Guardian – Islam

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PathikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PathikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ Pathik Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PathikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ