ইসলাম ডেস্ক: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার বহু আগে থেকেই কীভাবে মুসলিম ও আরব আমেরিকানদের ওপর সরকারি নজরদারি এবং বিদ্বেষ বা ইসলামোফোবিয়া রূপ পেয়েছিল, তা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে সাংবাদিক ও লেখক রোজিনা আলীর নতুন বই ‘সিজনস অব ফিউরি’। নিউ ইয়র্ক টাইমস ম্যাগাজিনে কর্মরত এই সাংবাদিক নিজের গবেষণা ও বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বইটি রচনা করেছেন।
বইটিতে ৯/১১-এর অনেক আগে, অর্থাৎ ১৯৬৭ সালের ইসরায়েল-আরব যুদ্ধ থেকে শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন পর্যন্ত সময়কালের অ্যান্টি-মুসলিম নীতির প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। চারটি পরিবারের অভিজ্ঞতার আলোকে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর প্রশাসনিক নজরদারি ও ভীতিকর পরিস্থিতির বর্ণনা তুলে ধরেছেন লেখক।
রোজিনা আলী জানান, ২০০০-এর দশকের শুরুতে ক্যালিফোর্নিয়ায় বেড়ে ওঠার সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধ ও স্বাধীনতার ওপর বিশ্বাস রাখতেন। কিন্তু ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হামলার পর তাঁর পাকিস্তান থেকে আসা পিতামাতা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং পরিবারকে সতর্ক করেন যে মুসলিম হওয়ার কারণে তারা সবাই এখন সন্দেহের তালিকায় থাকবেন। পরবর্তীতে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেন তাঁর বাবা-মায়ের সেই ভয় অমূলক ছিল না।
বইটিতে দেখা যায়, ১৯৭১ সালের দিকে আরব আমেরিকান আইনজীবী আবদীন জাবারা প্রথম মার্কিন নাগরিক হিসেবে ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) নজরদারির শিকার হন। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গি ও দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা নীতির কারণে আরব ও মুসলিম জনগোষ্ঠীকে আলাদা নজরদারির আওতায় আনা শুরু হয়।
লেখক উল্লেখ করেন, ১৯৯০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর মার্কিন প্রশাসনিক ভাবনায় সন্ত্রাসী হুমকি হিসেবে ইসলামি গোষ্ঠীদের সংজ্ঞায়িত করার প্রবণতা বাড়ে। ১৯৯৫ সালে ওকলাহোমা সিটি বোমা হামলার পরপরই অপরাধীকে না দেখেই অনেক সংবাদ মাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এটিকে আরব বা মুসলিম সন্ত্রাসীদের কাজ বলে ধরে নিয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে দেখা যায় হামলাকারী ছিলেন একজন শ্বেতাঙ্গ মার্কিন সেনা ভেটেরান।
৯/১১ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাফে, মসজিদ এবং মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় ছদ্মবেশী গোয়েন্দা নিয়োগ ও গোপন নজরদারি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। ফলে অনেক মুসলিম মনে করতেন তারা ২৪ ঘণ্টা নজরদারির মধ্যে রয়েছেন।
রোজিনা আলী বলেন, গবেষণা শুরু করার ১০ বছর পর আজ যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়া আরও বেশি প্রখর বলে মনে হয়। ২০২৬ সালের মে মাসে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন মুসলিম দৈনন্দিন জীবনে বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া ৯/১১-এর পর থেকে অন্য ধর্মের চেয়ে ইসলাম সহিংসতাকে বেশি উসকে দেয়—এমন বিশ্বাস রাখা প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিনদের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে টেক্সাস ও ফ্লোরিডার মতো কিছু অঙ্গরাজ্য দেশটির অন্যতম পুরোনো মুসলিম নাগরিক অধিকার সংস্থা ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস’ (কেয়ার)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংক্রান্ত পররাষ্ট্রনীতির সাথে এই ইসলামোফোবিয়ার সম্পর্ক গভীর হয়ে থাকবে বলে মনে করেন আলী।
সূত্র: The Guardian – Islam

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।