ইসলাম ডেস্ক: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ন
সুইডেনে আগামী রবিবারের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে উঠেছে। দেশের উগ্র ডানপন্থী শক্তিগুলোর ক্ষমতা ও প্রভাব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে তাদের ইসলামবিরোধী ও অভিবাসীবিদ্বেষী প্রচারণার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।
সুইডেনে দীর্ঘ দিন ধরে উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো ইসলাম ধর্মকে সুইডিশ মূল্যবোধের পরিপন্থী হিসেবে চিত্রায়িত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এর জবাবে ২০১৭ সালে ‘আস্ক-এ-মুসলিম’ (একজন মুসলিমকে জিজ্ঞাসা করুন) নামের একটি প্রচার অভিযান শুরু করেন সুইডেনে জন্মগ্রহণকারী ইমাম কাশিফ ভির্ক। আহমেদী মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে তারা ইতোমধ্যে ১৫০টিরও বেশি কাঁচাবাজার, জনপরিসর ও শহরের কেন্দ্রস্থলে উপস্থিত হয়ে সাধারণ মানুষের নানা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন।
ইমাম কাশিফ ভির্ক জানান, চরমপন্থী দলগুলোর কারণে মানুষ ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে আশঙ্কায় ভোগে। কিছু মানুষ সরাসরি অশোভন আচরণ করলেও সুইডেনের অধিকাংশ সাধারণ মানুষই বন্ধুত্বপূর্ণ এবং তারা প্রকৃত সত্য জানতে আগ্রহী।
নির্বাচন ঘিরে জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, সেন্টার-লেফট বা মধ্য-বামপন্থী বিরোধী দলগুলো সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মধ্য-ডানপন্থী জোট সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্বাচনে জয়ী হলে তারা কট্টর ডানপন্থী ‘সুইডেন ডেমোক্র্যাটস’ দলকে মন্ত্রীসভায় জায়গা দেবে। এই ঘোষণার পর অভিবাসী ও সংখ্যালঘু মুসলিমদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দলটির চাপে গত চার বছরে অভিবাসন এবং অপরাধ সংক্রান্ত নীতিগুলোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিরোধী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস দলও অপরাধ ও অভিবাসন ইস্যুতে উগ্র ডানপন্থীদের নীতি অনেকাংশে মেনে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে সুইডেনের রাজনীতি ও সামাজিক পরিবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে ডানপন্থী অবস্থানের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
বিগত বছরগুলোতে সুইডেনে মসজিদ ভাঙচুর, ২০২৩ সালের কুরআন অবমাননার ঘটনা এবং গত বছর ওরেব্রো শহরে অভিবাসী পটভূমির ১০ জন মানুষকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বর্তমানে সুইডেনের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ মুসলিম।
লেবানন থেকে ১৯৯৯ সালে সুইডেনে আসা এক নার্স জানান, ডানপন্থীরা যখন তাদের হিজাব বা ধর্ম নিয়ে কথা বলে, তখন তা অত্যন্ত অপমানজনক মনে হয়। অথচ তারা বছরের পর বছর পরিশ্রম করে সুইডেন গঠনে ভূমিকা রেখেছেন। আবার কেনিয়া থেকে আসা অন্য এক অভিবাসী জানান, বর্তমান চরম রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অভিবাসীদের জন্য পরিবেশ ভীতিকর হয়ে উঠেছে এবং অনেকেই এখন ভবিষ্যত নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন।
অভিবাসন সংক্রান্ত দাতব্য সংস্থা ‘রিফিউজিস ওয়েলকাম স্টকহোম’-এর প্রতিনিধিরা জানান, ২০১৫ সালে যেখানে লাখ লাখ আশ্রয়প্রার্থীকে খোলা মনে গ্রহণ করা হয়েছিল, সেখানে এখন বাৎসরিক শরণার্থী কোটা ৫ হাজার থেকে কমিয়ে মাত্র ৯০০-তে নামিয়ে আনা হয়েছে। সেই সঙ্গে অস্পষ্ট অজুহাতে বসবাসের অনুমতি বাতিলের আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে।
সাংবাদিক ও চরমপন্থা বিষয়ক গবেষক বিলান ওসমান উল্লেখ করেন, এক দশক আগে যেসব প্রস্তাব কল্পনাও করা যেত না, তা এখন মূলধারার রাজনীতিতে নিয়মিত আলোচিত হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সুইডেন এখন এমন এক সংকটময় মুহূর্তে পৌঁছেছে যেখানে মুসলিমরা নিজেদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
সূত্র: The Guardian – Islam

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।