অর্থনীতি ডেস্ক: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:২১ অপরাহ্ন
যুক্তরাজ্যের যাত্রীবাহী প্রধান রেল পরিষেবাগুলোকে পুনরায় জাতীয়করণের অংশ হিসেবে চিলটার্ন রেলওয়েজ সরকারি মালিকানায় প্রবেশ করেছে। লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকে এটি জাতীয়করণ হওয়া ষষ্ঠ ট্রেন অপারেটর। ২০২৭ সালের শেষের মধ্যে অবশিষ্ট চারটি প্রধান বেসরকারি ট্রেন অপারেটরকেও সরকারি খাতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
চিলটার্ন রেলওয়েজ প্রধানত লন্ডন মেরিলেবোন এবং বার্মিংহামের মধ্যবর্তী চিলটার্ন মেইনলাইনে যাতায়াতকারী যাত্রী সেবা পরিচালনা করে। রোববার সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আসে। দেশটির পরিবহন বিভাগ (ডিএফটি) জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ট্রেনের ভিড় ও নিয়মিত যাত্রী ভোগান্তি দূর করে আরও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে চিলটার্ন যাত্রীদের জন্য বেশ কিছু উন্নয়নমূলক ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রেনের সংখ্যা ও আসন বাড়ানো, নতুন ট্রেন যুক্ত করা, স্টেশনগুলোর আধুনিকায়ন এবং উন্নত ওয়াইফাইসহ অনবোর্ড সুবিধা বৃদ্ধি। চুক্তি শেষ হওয়ার সাথে সাথে বেসরকারি পরিচালনা সংস্থাকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য ২০২৪ সালে আইন পাস করেছিল দেশটির সরকার।
ইতিমধ্যেই সরকারি মালিকানায় থাকা চারটি অপারেটর এবং নেটওয়ার্ক রেলের সাথে যুক্ত হয়ে পরবর্তীতে একটি সমন্বিত সংস্থা ‘গ্রেট ব্রিটিশ রেলওয়েজ’ (জিবিআর) গঠন করা হবে। রেলমন্ত্রী পিটার হেনডি বলেন, সরকারি মালিকানায় রূপান্তরের ফলে সময়মতো ট্রেন চলাচল এবং আরামদায়ক যাত্রার মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিশ্চিত করা সহজ হবে। তিনি আরও জানান, পুরো পরিবর্তন রাতারাতি না হলেও একটি নির্ভরযোগ্য রেলব্যবস্থা তৈরি করা হবে যা কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।
নতুন ট্রেন যুক্ত করার মাধ্যমে আগামী ডিসেম্বর থেকে চিলটার্ন নেটওয়ার্কে দৈনিক আরও ২৫টি ট্রেন সেবা চালু করা হবে। এর ফলে সপ্তাহের কর্মদিবসগুলোতে প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০,০০০ আসন যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চিলটার্ন রেলওয়েজের অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক টনি ব্যাক্সটার জানান, বছরের পর বছর ধরে সহকর্মীদের পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের ফলেই এই উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে এবং সরকারি মালিকানা ইন্ডাস্ট্রি জুড়ে যোগাযোগ আরও দৃঢ় করবে।
পরিবহন বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, এই হস্তান্তরের ফলে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ইস্ট ওয়েস্ট রেল’ বাস্তবায়নে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ লাইনের অংশ হিসেবে অক্সফোর্ড ও মিল্টন কিন্সের মধ্যে গত বছরই এই ট্রেন পরিষেবা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে রাষ্ট্রে মালিকানা হস্তান্তরের পর এই পরিষেবা চালুর নির্দিষ্ট সময়সীমা স্পষ্ট নয়।
ট্রেন বিলম্বের নানা কারণ জানানো হলেও গার্ড বা রক্ষী ছাড়া ট্রেন চালানোর পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে রেল শ্রমিক ইউনিয়নগুলো। আরএমটি ইউনিয়ন ড্রাইভার-অনলি অপারেশনের বিরোধিতায় আন্দোলন করছে এবং সোমবার লন্ডন মেরিলেবোন স্টেশনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। তাদের এই ধর্মঘটের ভোট গ্রহণ ও বিরোধিতা নতুন সমন্বিত রেল ব্যবস্থার যাত্রাকে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। উল্লেখ্য, আগামী ডিসেম্বরে ‘গ্রেট ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে’ পরবর্তী অপারেটর হিসেবে সরকারি নিয়ন্ত্রণে আসার কথা রয়েছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।