যুক্তরাজ্যের জ্বালানি বিলের সঙ্গে যুক্ত ‘লুকানো কর’ বা অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করতে দেশটির অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ১০০টিরও বেশি বড় ব্যবসা ও দাতব্য সংগঠন। গ্রাহকদের খরচ কমানো এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়া ঠেকানোর লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী জন হিলির আগামী ২৮ অক্টোবরের বাজেটকে সামনে রেখে এই দাবি তোলা হয়েছে।
এনার্জি ইউকে, ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি সংস্থা সিবিআই, এন্ড ফুয়েল পোভার্টি এবং এইজ ইউকে-সহ মোট ১২৩টি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গ্রুপ অর্থমন্ত্রীকে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে এ আবেদন জানায়। চিঠিতে বলা হয়, জ্বালানি বিলে যুক্ত থাকা প্রায় ১০ শতাংশ লেভি বা নীতি-সংক্রান্ত চার্জ যা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যবহার হয়, তা এখন থেকে সরকারের তহবিল থেকেই বহন করা উচিত।
চিঠির স্বাক্ষরকারীরা দাবি জানিয়েছেন, নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্প নির্মাণের জন্য বিলে যে অতিরিক্ত লেভি রাখা হয়েছে তা বাতিল করা হোক। উল্লেখ্য, সাবেক অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস গত বছর এই তহবিলের ৭৫ শতাংশ খরচ সরকারি কর ব্যবস্থার অধীনে নিয়ে এসেছিলেন।
এ ছাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি, ওয়ার্ম হোম ডিসকাউন্ট স্কিম এবং ফিড-ইন ট্যারিফ প্রোগ্রামের মতো কর্মসূচির খরচ মেটাতে জ্বালানি বিলে যুক্ত করা চার্জও বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। ফিড-ইন ট্যারিফ প্রোগ্রামটি ২০১৯ সালে বন্ধ হয়ে গেলেও চুক্তিবদ্ধ গ্রাহকদের উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের জন্য এখনো অর্থ প্রদান করা হচ্ছে।
চিঠিতে যুক্ত করা বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব লেভি বা শুল্ক বিল থেকে সরিয়ে নিলে সাধারণ পরিবারের বার্ষিক বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল গড়ে ২৫০ পাউন্ড পর্যন্ত কমতে পারে। এর মধ্যে রিভসের পূর্ববর্তী উদ্যোগের ফলে ১৫০ পাউন্ড সাশ্রয়ের হিসাবও রয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুতের খরচ প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস পাবে।
চিন্তক প্রতিষ্ঠান ই৩জি-এর যুক্তরাজ্য কর্মসূচির পরিচালক এড ম্যাথিউ বলেন, বিদ্যুতের ওপর উচ্চ কর আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য তার নিজের বিদ্যুৎ খরচ কমানোর চেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং শিল্প পুনর্গঠনের জন্য এসব শুল্ক বিল থেকে সরিয়ে রাজস্ব তহবিলে স্থানান্তরিত করাই যৌক্তিক পদক্ষেপ।
গত বছর দেশটির সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অক্টোপাস জানিয়েছিল, পাইকারি বাজারে দাম কমলেও সরকারি নীতিগত খরচের কারণে আগামী চার বছরে জ্বালানি বিল ২০ শতাংশ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে চলতি শীতে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ জ্বালানি খরচের মুখে পড়তে হচ্ছে দেশটির বাসিন্দাদের।
জ্বালানি বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্নওয়াল ইনসাইটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফজেম আগামী জানুয়ারি মাসে আবার তাদের ত্রৈমাসিক প্রাইস ক্যাপ বা মূল্যসীমা বাড়াতে পারে। এর ফলে গড় বার্ষিক পারিবারিক বিল পৌঁছে যেতে পারে ১,৮৭২ পাউন্ডে।
২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে যুক্তরাজ্য সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানি বিল বার্ষিক ৩০০ পাউন্ড কমানোর যে অঙ্গীকার করেছিল, তার প্রেক্ষাপটে বর্তমানে সরকারের ওপর চাপ দিন দিন বাড়ছে। ২০২১ সালের তুলনায় দেশটিতে বর্তমানে জ্বালানি বিল প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি।
গত জুলাই মাসে অ্যান্ডি বার্নহাম গৃহস্থালি জ্বালানি বিলে ভ্যাট হ্রাসের ঘোষণা দেন, যা আগামী অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এতে গড়ে ৪৫ পাউন্ড সাশ্রয় হবে, যদিও এই সুবিধা কেবল আগামী এপ্রিল পর্যন্ত বহাল থাকার কথা রয়েছে।
এনার্জি ইউকের প্রধান নির্বাহী ধারা ব্যাস জানান, উচ্চ বিদ্যুৎ মূল্য সবার জন্যই ক্ষতিকর। বিল থেকে এই শুল্ক সরিয়ে নিলে জ্বালানি দারিদ্র্য ও জীবনযাত্রার সংকট মোকাবিলা করা সরকারের পক্ষে সহজ হবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
চিঠিতে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে আরও বলা হয়, উচ্চ জ্বালানি ব্যয় গোটা অর্থনীতির জন্যই এক বিরাট প্রতিবন্ধকতা। এর কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, কর্মসংস্থান হারাচ্ছে মানুষ এবং দেশে নতুন বিনিয়োগ ব্যাহত হচ্ছে।
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।