যানজট, কানফাটা হর্ন আর তীব্র ভোগান্তি – ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের নিত্যদিনের চিত্র এখন এটাই। অভিযোগ উঠেছে, ট্রাফিক বিভাগের কথিত ‘মাসোহারা বাণিজ্য’ এবং পৌরসভার উদাসীনতার কারণে শহরে বেপরোয়াভাবে চলছে প্রায় ২০ হাজার অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের তথ্যমতে, শহরজুড়ে চলাচলকারী প্রায় ২০ হাজার ইজিবাইকের একটিরও বৈধ লাইসেন্স নেই। পৌরসভা থেকে ২০২ সালে দেওয়া প্রায় ৪ হাজার গাড়ির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে। সেগুলো আর নবায়ন হয়নি। বাকিগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ এবং নকল নেমপ্লেট ব্যবহার করছে বলে জানান পৌর প্রশাসক *মো. শরিফুল ইসলাম*।
অভিযোগ রয়েছে, এক-দুটি গাড়ির মালিকরা দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানেজ করছেন। আর যাদের ২০ থেকে ৫০টি গাড়ি আছে, তারা সরাসরি ট্রাফিক বিভাগে নির্দিষ্ট অঙ্কের ‘মাসোহারা’ পৌঁছে দিচ্ছেন।
কাউতলী, কুমারশীল, মেড্ডা, পৈরতলা, কালীবাড়ি মোড় থেকে হাসপাতাল মোড় – প্রতিটি পয়েন্টেই দিন-রাত লেগে থাকছে যানজট। ২০০-৩০০ মিটার রাস্তা যেতে সময় লাগছে ৩০ মিনিটের বেশি। স্থানীয়রা বলছেন, গাড়িতে চড়ার চেয়ে হেঁটে যাওয়াই এখন দ্রুত।
সচেতন মহলের ধারণা, অতিরিক্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুতের যে ঘাটতি আছে, অবৈধ ইজিবাইকগুলো নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণ সম্ভব। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণহীন ভাড়াও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ট্রাফিক ইনচার্জ সোহরাব হোসেন বলেন, “অটোরিকশার লাইসেন্স চেক করা বা মামলা দেওয়া ট্রাফিক পুলিশের কাজ নয়। আমাদের কাজ কেবল যানবাহন তদারকি করা। পৌরসভা অভিযান করলে আমরা সহযোগিতা করব।”
অন্যদিকে পৌর প্রশাসক শরিফুল ইসলাম বলেন, “ট্রাফিক বিভাগ শহরে ঢুকতে না দিলে একটি অবৈধ গাড়িও নামতে পারবে না।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক জানান, এমপি, পৌর প্রশাসক, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও এসপিকে নিয়ে খুব শিগগিরই বৈঠক করে সমাধান করা হবে। প্রথমে ভুয়া লাইসেন্সধারীদের নবায়নের সুযোগ দেওয়া হবে। এরপর অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও অভিযান শুরু হবে।
ছুটির দিন বিশেষ করে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শনিবার পর্যন্ত শহরের যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তাই দ্রুত এই নৈরাজ্য বন্ধের দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।