সমাজ ধ্বংস হলে মানুষ কেমন আচরণ করবে: চ্যানেল ফোরের নতুন রিয়্যালিটি শো ‘অ্যাপোক্যালিপ্স’

জলবায়ু সংকট ও বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে সমাজ ও সভ্যতা ভেঙে পড়লে মানুষের আচরণ কেমন হতে পারে, তা নিয়ে ব্রিটিশ টেলিভিশন চ্যানেল ফোরে শুরু হচ্ছে নতুন রিয়্যালিটি শো 'অ্যাপোক্যালিপ্স'।
সমাজ ধ্বংস হলে মানুষ কেমন আচরণ করবে: চ্যানেল ফোরের নতুন রিয়্যালিটি শো 'অ্যাপোক্যালিপ্স'
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

বিনোদন ডেস্ক: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ন

যদি বর্তমান সমাজ ও সভ্যতা হুট করে ভেঙে পড়ে, তবে মানুষ কীভাবে খাদ্য ও আশ্রয়ের সংস্থান করবে? আইনের শাসন না থাকলে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে মানুষ কতটা হিংস্র বা নিষ্ঠুর হয়ে উঠতে পারে? এসব প্রশ্নের উত্তর ও বাস্তবিক রূপ তুলে ধরতে ব্রিটিশ টিভি চ্যানেল চ্যানেল ফোর নিয়ে আসছে নতুন রিয়্যালিটি শো ‘অ্যাপোক্যালিপ্স’। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর রবিবার রাত ৯টায় এই শোটি সম্প্রচার শুরু হতে যাচ্ছে।

এই প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানে সাতজন অচেনা মানুষকে একটি পরিত্যক্ত শহরের প্রান্তে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখানে তাদের ব্যবহারের জন্য কোনো ফোন, বিদ্যুৎ, আলো বা নগর অবকাঠামোর সুযোগ থাকবে না। তাদের কেবল ভরসা করতে হবে পরিত্যক্ত ও কাঠ দিয়ে বন্ধ করা সুপারমার্কেট, নির্জন ভবন এবং নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা যানবাহনের ওপর। চরম প্রতিকূল পরিবেশে এসব মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের চিত্রই তুলে ধরা হয়েছে এই আয়োজনে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রতিযোগীদের মধ্যে রয়েছেন একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর, একজন প্যারালিম্পিয়ান, থিয়েটার পরিচালক, ইভেন্ট সঞ্চালক, ডিজেল মেকানিক এবং একজন স্বাস্থ্যবান অস্ট্রেলীয় শিকারি। বিভিন্ন পেশা ও মানসিকতার এই মানুষেরা একসঙ্গে থাকতে গিয়ে শুরুতেই নানামুখী মানসিক চাপ ও সংঘাতের মুখোমুখি হন।

পরিত্যক্ত শহরের কাছে একটি ট্রেইলারের পাশে জীবন্ত মুরগি ও টিনজাত ‘স্প্যাম’ মাংস পাওয়ার পর প্রতিযোগীদের মধ্যে উল্লাস দেখা যায়। তবে সম্পদের সংকট তৈরি হতেই সেখানে শুরু হয় উত্তেজনা। কড়া অনুশাসনের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলীয় শিকারি প্রতিযোগী সবাইকে দিনে মাত্র এক-চতুর্থাংশ টমেটো খাওয়ার সিদ্ধান্ত দিলে বাকিদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরবর্তীতে জমা রাখা খাবার চুরি হয়ে গেলে তারা কাঠের ব্যাট নিয়ে পূর্ণমাত্রার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে।

রিসোর্সের ঘাটতি ও না খেয়ে থাকার ফলে প্রতিযোগীদের মানসিক উদ্বেগের মাত্রা চরম আকার ধারণ করে। প্রতিযোগীদের একজন, কিয়েরা নামের এক মনোবিজ্ঞানী, শহরে পৌঁছানোর এক ঘণ্টার মধ্যেই খাদ্য সামগ্রীর দোকানের বোর্ডের ঢাকনা খোলার চেষ্টা করতে থাকেন। খাদ্য সংকটের কারণে অনেক প্রতিযোগীকে একটানা তিন থেকে চার দিন পর্যন্ত না খেয়েও কাটাতে হয়েছে।

অনুষ্ঠানটিতে এটিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে প্রতিযোগীরা শহরের একমাত্র দল নয়। অন্য আরেকটি দলের অস্তিত্ব টের পাওয়ার পর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের মধ্যে চরম আঞ্চলিকতা ও দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ছাড়া একটি পরিত্যক্ত শহরের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই শোটি নগরকেন্দ্রিক পরিবেশের কারণে দর্শকদের বাস্তব জীবনের বেশ কাছাকাছি অনুভূতি দেয়।

পর্যালোচকদের মতে, এই রিয়্যালিটি শোটিতে মানুষের স্বার্থপরতা ও নেতিবাচক দিকগুলো স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। চরম সংকটে পড়লে মানুষ কীভাবে একে অপরকে অবমূল্যায়ন করে, মিথ্যা বলে, চুরি করে কিংবা সহিংসতার দিকে ঝুঁকে পড়ে, তা এতে দেখা গেছে। সব মিলিয়ে এটি মানব প্রকৃতির এক অন্ধকার ও বাস্তবিক রূপ উন্মোচন করেছে।

অথেন্টিক সোর্স: The Guardian – Culture
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।
পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ