সরাইলে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট ‎ ‎১৭টি পদ শূন্য, মাত্র ৬–৭ শিক্ষকেই চলছে পাঠদান ‎দেখার যেন কেউ নেই

‎ ‎১৭টি পদ শূন্য, মাত্র ৬–৭ শিক্ষকেই চলছে পাঠদান ‎দেখার যেন কেউ নেই
14070
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চলছে। বিদ্যালয়টিতে অনুমোদিত পদের বিপরীতে ১৭টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে মাত্র ৬–৭ জন শিক্ষক দিয়ে কোনোভাবে চলছে উপজেলার একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম।

‎এতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহায়তা দিতে গিয়ে কর্মরত শিক্ষকদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম যথাসময়ে শেষ করা, বিষয়ভিত্তিক পাঠদান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ বজায় রাখা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

‎স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের অভিযোগ, উপজেলার একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষক পদ শূন্য থাকা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বিষয় নয়। বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয় এমন অভিযোগও রয়েছে।

‎অভিভাবকদের প্রশ্ন, একটি সরকারি বিদ্যালয়ে যেখানে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার কথা, সেখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার মান কীভাবে নিশ্চিত হবে? উপজেলার অন্যান্য নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা ও উদ্যোগ থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সংকট কেন অগ্রাধিকার পাচ্ছে না এ নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে।

‎সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ অথবা প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক পদায়ন করা না হলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

‎স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শূন্যপদের বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ বা পদায়নের ব্যবস্থা করুক। ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

‎সবকিছু নিয়ে যখন নানা মহলে ব্যস্ততা, তখন ১৭টি শিক্ষক পদ শূন্য রেখে মাত্র ৬–৭ জন শিক্ষক দিয়ে উপজেলার একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় চলবে এমন পরিস্থিতি কতদিন চলবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ