ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একটি মাদ্রাসার মাঠ থেকে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে কৌশলে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ছয়জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর একজনকে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে ওই কিশোরী ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যা ৮টার দিকে সরাইল উপজেলার বাড়িউড়া সিরাজুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার মাঠে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী কিশোরী মিম আক্তার (১৪) বাড়িউড়া উত্তরপাড়ার আব্দুল কাদের ও জামেলা বেগমের মেয়ে।
অভিযোগে বলা হয়, মাদ্রাসার মাঠ থেকে কৌশলে কিশোরীকে রাস্তার পাশে নিয়ে মুখ চেপে ধরে একটি অটোরিকশায় তোলা হয়। পরে বাড়িউড়া ও ইসলামাবাদ সড়কের মধ্যবর্তী একটি বিলের পাশে নিয়ে ছয়জন মিলে তাঁকে পালাক্রমে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে কিশোরী অচেতন হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা পানি দিয়ে তাঁকে কিছুটা সুস্থ করেন। পরে অভিযুক্ত আল-আমিন অটোরিকশায় করে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তাঁকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় কাউকে কিছু জানালে কিশোরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর বিষয়টি জানার পর পরিবারের সদস্যরা কিশোরীকে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
এদিকে, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীর পরিবারকে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দেওয়া এবং মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে আইনি পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে জাকির মিয়া (৩০), নাঈম হোসেন (২২), সোহাগ মিয়া (২২), মোখলেছ (৩৫), বাহার মিয়া (২২) এবং আল-আমিন ওরফে জিকিরির (৪০) নাম এসেছে। তাঁদের সবার বাড়ি সরাইল উপজেলার বাড়িউড়া এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে।
গত ১৭ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় সরাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জহিরুল ইসলাম তালুকদার জানান, এ ঘটনায় দ্রুত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং একজন অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।