সাইবার সুরক্ষা আইনে গণমাধ্যম বা কোনো ব্যক্তির কণ্ঠ রোধ কিংবা নিপীড়নের সুযোগ রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আইনটির খসড়া এখনো প্রণয়ন ও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। কোনো শব্দ বা ধারার দ্বৈত অর্থের সুযোগ নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে আইনের অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। অতীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইন সংবাদমাধ্যমকে দমিয়ে রাখা বা ভয় দেখানোর কাজে ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। নতুন আইনে যেন এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেটিই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি জানান, খসড়া আইন নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে এবং পরবর্তী পর্যায়েও তাদের মতামত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জননৈতিকতা নষ্ট করে এমন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
আন্দালিভ রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই না করে কোনো কনটেন্ট শেয়ার করা, মানহানিকর বক্তব্য প্রচার বা পুনঃপ্রচারসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরিতেও কর্মসূচি নেওয়া হবে।
সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া বৈঠকে পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সাংবাদিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তবে বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি; মূলত আইনটি কীভাবে প্রণয়ন করা যায়, সে বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মেটা ও ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু কনটেন্ট ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এসব সামাজিকভাবে ক্ষতিকর কনটেন্ট কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, আইন প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন। কমিটির পরবর্তী বৈঠক আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।