বনলতা এক্সপ্রেসে সিনেমা প্রদর্শনী বন্ধ নিয়ে অনলাইনে তোলপাড়:

লেখক: শেখ জুনায়েদ
প্রকাশ: ২ মাস আগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ সম্প্রতি ঢাকা-রাজশাহী রুটের বিরতিহীন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে সিনেমা প্রদর্শনী বন্ধের একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা এবং তোলপাড় শুরু হয়েছে। ট্রেনের ভেতরের বিনোদন ব্যবস্থা বন্ধের এই সিদ্ধান্তকে ছাপিয়ে স্থানীয় নেটিজেনদের আলোচনায় উঠে এসেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের সমসাময়িক বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, অপরাধ এবং প্রশাসনের ভূমিকা। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে জনমনে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

নেটিজেনদের মূল ক্ষোভ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি বড় অংশের দাবি—সিনেমার চেয়েও অনেক বেশি জঘন্য ও ক্ষতিকর অপরাধ সমাজকে গ্রাস করছে, অথচ সেদিকে কারও নজর নেই। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রকাশ্যেই চলছে মাদক ব্যবসা, ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি, সিন্ডিকেট ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলদারিত্ব।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে শহরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন আবাসিক বাসা-বাড়িতে অনৈতিক বা দেহ ব্যবসার বিস্তার।

নেটিজেনদের একাংশের মতে:
“একটি ট্রেন বা সিনেমাকে কেন্দ্র করে যে উগ্রতা বা অতি-উৎসাহ দেখানো হচ্ছে, সেই একই উদ্যম যদি সমাজ থেকে মাদক বা অনৈতিক ব্যবসা দূর করতে ব্যবহার করা হতো, তবে যুবসমাজ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেত।”

মাদকের মরণকামড়ে বহু অসহায় পরিবার আজ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যে, এসব বাস্তব ও ভয়াবহ সমস্যা বন্ধের দাবিতে কেউ জোরালো প্রতিবাদ করছে না।

“সিনেমা সমাজ ধ্বংসের একমাত্র কারণ নয়”

ফেসবুকে চলমান বিতর্কে অনেকের অভিমত, সিনেমা দেখা কোনোভাবেই সমাজের সবচেয়ে বড় অপরাধ বা খারাপ কাজ নয়। উগ্র মানসিকতা বাদ দিয়ে সমাজের আসল সমস্যাগুলো—যেমন অপরাধ চক্র নির্মূল এবং নৈতিকতার উন্নয়ন নিয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে। তাদের মতে, সংস্কৃতির সুস্থ চর্চা বন্ধ হলে অপসংস্কৃতি ও অপরাধ আরও বৃদ্ধি পায়।

সরকারি দল ও রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য নিয়ে সমালোচনা

আলোচনার আরেকটি দিক মোড় নিয়েছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খাতে। সিনেমা কোন সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি নয়। কিছু ব্যবহারকারী ট্রেন ও সিনেমা প্রদর্শনীকে ‘রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য’ এবং রাজস্ব আয়ের একটি অংশ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। একই সাথে, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অপরাধ দমনে ব্যর্থতার দায় চাপিয়ে সরকারি দল ও প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করছেন কেউ কেউ। তাদের দাবি, যেখানে জননিরাপত্তা ও নৈতিকতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের, সেখানে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে জলঘোলা করা হচ্ছে অথচ বড় বড় অপরাধ আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।

এক নজরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মূল দাবি ও প্রতিক্রিয়া:

আলোচনার মূল বিষয়:

বনলতা এক্সপ্রেস বিতর্ক সিনেমা বন্ধের চেয়েও সমাজে আরও জঘন্য অপরাধ চলমান রয়েছে।
মাদক ও যুবসমাজ মাদকের কারণে যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে, অসহায় পরিবারগুলো নিঃস্ব হচ্ছে।
আবাসিক এলাকার অনৈতিকতা শহরে আবাসন কেন্দ্রিক অনৈতিক ব্যবসা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এখন সমালোচনার মুখে।
প্রশাসনের ভূমিকা টিকিট কালোবাজারি, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়াকে আমলে নিয়ে প্রশাসন যেন শহরের প্রকৃত সমস্যা—বিশেষ করে মাদক ও অনৈতিক ব্যবসার বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।