বিনোদন ডেস্ক: ২০০২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাসের টোপেকায় নিজের শোবার ঘরে নির্মমভাবে খুন হন মাইক সিসকো এবং কারেন হার্কনেস। সেই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড এবং এর পরবর্তীতে ঘটে যাওয়া জটিল আইনি লড়াই নিয়ে তৈরি এইচবিও-র নতুন থ্রি-পার্ট প্রামাণ্যচিত্র ‘এ কিলার স্টোরি’। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে এইচবিও এবং এইচবিও ম্যাক্সে এটি দেখা যাবে। প্রামাণ্যচিত্রটি পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছেন ম্যাথিউ গ্যালকিন এবং জোশ লেভিন।
হত্যাকাণ্ডের পর প্রাথমিক তদন্তে মাইক সিসকোর প্রাক্তন স্ত্রী ডানা চ্যান্ডলারের ওপর সন্দেহ গিয়ে পড়ে। তবে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে তৎকালীন কাউন্টি প্রসিকিউটর তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনেননি। কিন্তু পরবর্তীতে রাজনৈতিকভাবে নিযুক্ত এক প্রসিকিউটর এবং ২০০৯ সালে সিবিএস-এর জনপ্রিয় ট্রু ক্রাইম শো ‘৪৮ আওয়ার্স’-এ এই ঘটনাটি প্রচারের পর ২০১১ সালে চ্যান্ডলারকে গ্রেফতার করা হয়। ২০১২ সালে তাকে দুই দফায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ডানা চ্যান্ডলারের এই সাজাকে কেন্দ্র করেই মূল গল্পের বিস্তার ঘটে। আইনি সিদ্ধান্তের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এক আইনি জটিলতা নিরসনকারী দম্পতি কীন এবং আইলিন আমবেয়ার। তারা বিশ্বাস করতেন প্রকৃত অপরাধী ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। চ্যান্ডলারের আইনি সহায়তার জন্য তারা নিজেদের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ২০০ একর পারিবারিক জমি বিক্রি করে দেন। এমনকি ২০১৬ সালে ক্যানসাস সুপ্রিম কোর্টে চ্যান্ডলারের সাজা বাতিলের আবেদনেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং সাজা বাতিল করাতে সক্ষম হন।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের পুলিৎজার পুরস্কারবিজয়ী প্রবীণ সাংবাদিক জো সেক্সটনও এই ঘটনার অনুসন্ধানে যুক্ত হন। আইলিন আমবেয়ারের হাজার হাজার ইমেইলের পর সেক্সটন টোপেকায় যান এবং এই জটিল মামলার রহস্য উদঘাটনে নামেন। তদন্তে দেখা যায়, চ্যান্ডলারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং প্রসিকিউশনের যুক্তিগুলোতে বেশ কিছু বড় ধরনের ফাঁক ছিল। মূল খুনি পেশাদার চোরের মতো সাবমেশিন গান দিয়ে ঘরে ঢুকে কোনো প্রমাণ না রেখে খুন করলেও চ্যান্ডলার বাস করতেন ৫০০ মাইল দূরে ডেথফারে।
প্রথম সাজা বাতিলের পর ২০২২ সালে দ্বিতীয়বার চ্যান্ডলারের বিচার শুরু হলেও জুরি কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। পরবর্তীতে তৃতীয়বারের বিচারে চ্যান্ডলার নিজের আইনজীবী নিজেই হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই বিচারে বিচারিক প্রক্রিয়ার নানা ত্রুটি ও বিতর্কিত সাক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।
এই প্রামাণ্যচিত্রটি কেবল একটি ট্রু ক্রাইম রহস্য নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার জটিলতা, গণমাধ্যমের প্রভাব এবং কোনো ঘটনার পেছনের সত্য উদঘাটনে সাধারণ মানুষের জোরালো চেষ্টার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ম্যাথিউ গ্যালকিন এবং জোশ লেভিনের দীর্ঘ ছয় বছরের অনুসন্ধানের ফসল এই সিরিজটি দর্শকদের মনে প্রশ্ন তোলে—আসলে কাকে বিশ্বাস করা উচিত?
সূত্র: The Guardian – Culture

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।