ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে গাজার খাদ্য সংকট তীব্র: সীমান্ত অবরোধে ২০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে গাজার খাদ্য সংকট তীব্র: সীমান্ত অবরোধে ২০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে গাজার খাদ্য সংকট তীব্র: সীমান্ত অবরোধে ২০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল গাজার সমস্ত সীমান্ত পারাপার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই এই নতুন অবরোধ গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দাকে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় গাজায় খাদ্যদ্রব্যের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, তাদের মজুত আর মাত্র কয়েক দিনের জন্য যথেষ্ট। গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, খাদ্যের প্রায় সমস্ত যোগান আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

বিশ্বখ্যাত দাতব্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন জানিয়েছে, সীমান্ত বন্ধ থাকলে চলতি সপ্তাহেই তাদের খাদ্য সরবরাহ শেষ হয়ে যাবে। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা হোসে আন্দ্রেস জানান, তারা প্রতিদিন ১০ লাখ মানুষের জন্য গরম খাবার রান্না করেন এবং এই কাজ চালাতে প্রতিদিন নতুন করে খাদ্য সরবরাহ প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গাজায় বর্তমানে মাত্র এক সপ্তাহের তাজা খাবার এবং ১০ দিনের রুটি তৈরির আটা অবশিষ্ট রয়েছে। এর আগে গত বছরের গ্রীষ্মে ইসরায়েলি অবরোধের কারণে চরম দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল, যেখানে ত্রাণ নিতে গিয়ে শত শত ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছিলেন।

ইরানে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাজার বাজারে আতঙ্কিত ক্রেতাদের ভিড় বেড়ে গেছে। এর ফলে নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বেড়েছে। ২৫ কেজি আটার বস্তার দাম, যা গত সপ্তাহে ৩০ শেকল ছিল, বর্তমানে ৮০–১০০ শেকলে পৌঁছেছে। চিনি, ভোজ্যতেল এবং শিশুদের ডায়াপারের মতো জরুরি পণ্যের দামও দ্বিগুণ হয়েছে।

সাধারণ ফিলিস্তিনি যারা ঘরবাড়ি ও সঞ্চয় হারিয়েছেন, তাদের পক্ষে এই বাড়তি দামে খাবার কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক ব্যবসায়ী ভবিষ্যতে আরও বেশি মুনাফার আশায় পণ্য মজুত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের প্রধান ইয়ান ইগেল্যান্ড বলেছেন, দখলদার শক্তি হিসেবে গাজার বেসামরিক নাগরিকদের পর্যাপ্ত খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসরায়েলের আইনি দায়িত্ব। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এই আন্তর্জাতিক মানবিক আইন পালনে কোনো বাধা হতে পারে না।

যদিও কোগাট নিরাপত্তার অজুহাতে সরবরাহ বন্ধের কথা বলেছিল, তবে সোমবার রাতে তারা মঙ্গলবার থেকে কেরেম শালোম সীমান্তে সীমিত পরিসরে ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং সেখানে কোনো কৌশলগত খাদ্য মজুত নেই, নিশ্চিত করেছে স্থানীয় বাণিজ্যিক সংগঠনগুলো।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ