বাঘায় ভেজাল গুড়ের দৌরাত্ম্যে প্রকৃত চাষিরা বিপাকে

বাঘায় ভেজাল গুড়ের দৌরাত্ম্যে প্রকৃত চাষিরা বিপাকে
বাঘায় ভেজাল গুড়ের দৌরাত্ম্যে প্রকৃত চাষিরা বিপাকে
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় ভেজাল গুড়ের দৌরাত্ম্যে প্রকৃত চাষিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। বাঘা উপজেলা যেমন আমের জন্য বিখ্যাত ঠিক তেমন খেজুর গুড়ের সুনাম অনেক। বাঘা উপজেলার খেজুর গুড় অনলাইনের মাধ্যমে চলে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

বাঘা উপজেলার গুড়ের যখন বেশ সুনাম বয়ে আনছে ঠিক তেমন সময়ে কিছু অসাধু গুড় ব্যবসায়ীরা কোন প্রকার রস ছাড়াই চিনি, পোষাকে দেওয়ার ক্ষতিরক রং, ময়দা সহ বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদানে মিশ্রণ ব্যবহার করে ভেজাল গুড় তৈরি করে নিয়মিত বাজারজাত করছে । এতে রস দিয়ে বানানো খাঁটি গুড়ের দাম ও ভেজাল গুড়ের দামের মধ্যে তফাৎ থাকছে না ফলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পরিশ্রমী চাষিরা।

এক চাষি বলেন, এবারের এই শীতে আমি ১৫ টি গাছ নিয়মিত লাগাচ্ছি যার ফলে দিনের বেশির ভাগ সময় আমায় এই খেজুর গাছের পিছনেই ব্যায় করতে হয়। দুপুর পার হতেই সব গাছে প্রতিদিনের পরিচর্যা শেষ করে গাছে হাড়ি বাধা সম্পুর্ণ করে ফেলি, আবার ফজর নামাজ পরে একটু সলক হলেই বেড়িয়ে পড়ি গাছ থেকে রস সংগ্রহের কাজে বেলা ৭:৩০ টার মধ্যে সব গাছের রস নামানো শেষ হয় পরে চুলাই দীর্ঘ সময় রস জাল দিয়ে গুড় তৈরি সব প্রক্রিয়া শেষ করে গুড় গুলো একটি খুরিতে ঢেলে গুড় তৈরি কাজ শেষ করি, ১৫ টি গাছে কম রস হলেও ৫০ লিটার রস হয় যাতে গুড় হয় ৫ থেকে ৬ কেজি।

এই কাজ শেষে আবার প্রতিটি গাছে উঠে গাছের পরিচর্যা শেষে আবারো হাড়ি পেতে দিয়ে আসি। পরের দিন সকালে আমাদের বানানো গুড় বাজারে বিক্রি করতে আসি। খাঁটি গুড় তৈরির খরচ বেশি ও কষ্টকর হলেও বাজারে ভেজাল গুড় আমদানির কারণে আমাদের খাঁটি গুড় গুলো প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকে বাধ্য হয়ে কম দামে গুড় বিক্রি করে চলে যান, ফলে তাদের উৎপাদন খরচও উঠে আসে না।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বাঘা উপজেলার সব থেকে বেশি ভেজাল গুড় তৈরি কারখানা আড়ানী পৌরসভা, ইউনিয়নের একাংশ ও বাউসা ইউনিয়নের একাংশ এলাকায়। সম্প্রতি উপজেলার আড়ানী পৌরসভার শাহাপুর এলাকায় র‍্যাব-৫ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন, অভিযানটি প্রায় ৬ ঘন্টা চলে । এ সময় ৫টি কারখানা অভিযান চালিয়ে কারখানা মালিকদের মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করে এবং কিছু গুড়, রং রাসায়নিক দ্রব্য ধ্বংস করে ।

বর্তমান বাঘা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ভেজাল গুড়ের পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফলে বাঘা উপজেলার সুনাম নষ্ট হচ্ছে সাথে প্রকৃত চাষীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক চাষীরা বলেছেন এই ভেজাল গুড় রোধ করতে না পারলে প্রকৃত গাছি/চাষীরা আর বেশি দিন টিকতে পারবে না। চাষিরা প্রশাসনের কাছে ভেজাল উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং খাঁটি গুড়ের পরিচয় তুলে ধরতে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এবিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন, বাঘা উপজেলায় ভেজাল গুড়ের কিছু তথ্য আমরা পেয়েছি এবং আমাদের প্রশাসন নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছে, উপজেলার বিভিন্ন ভেজাল গুড়ের কারখানায় অভিযান ও চালানো হচ্ছে, এই অভিযান গুলো চলমান থাকবে এর পরেও অসাধু ব্যবসায়ীরা সংশোধন না হলে উপজেলা প্রশাসন আরো কঠোর অবস্থানে যাবে।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ