আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের কঠোর অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “কেউ যদি আপনাদের ভোট কেড়ে নিতে আসে, তার হাত মুচড়ে দেবেন।” একই সঙ্গে এ ঘটনায় কেউ মামলা করলে তাঁর নামেই মামলা দিতে বলার কথাও জানান তিনি।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি ছিল।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এবারের নির্বাচন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং। কোনো ধরনের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ মেনে নেওয়া হবে না। তাই ঘরে বসে থাকলে চলবে না—ভোটকেন্দ্রে পাহারা দিতে হবে, মা-বোনদের ভোটকেন্দ্রে আসতে উৎসাহ দিতে হবে এবং তারা যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে বিষয়েও সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও দুর্নীতির জায়গা থাকবে না। “আমরা দুর্নীতির পাতা ধরে টান দেব না, মূল শিকড় ধরে টান দেব,”—বলেন তিনি। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া ২৮ লাখ কোটি টাকা ফেরত আনা হবে এবং এ ব্যাপারে কোনো আপস করা হবে না।
নারী নিরাপত্তার বিষয়েও জোর দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে মা-বোনদের ইজ্জতের কোনো গ্যারান্টি নেই। আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ঘরে-বাইরে, কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন।”
যুবসমাজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে যুবকরা মাঠে না নামলে ২০৪১ সাল পর্যন্ত দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ বিতাড়ন করা সম্ভব হতো না। ভবিষ্যতেও এই আন্দোলন ও লড়াই এগিয়ে নেওয়া হবে যুবকদের নিয়েই, এবং খুব শিগগিরই তাদের হাতেই দেশের দায়িত্ব তুলে দিতে চান তিনি।
শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ঝালকাঠিবাসীর গর্ব করার মতো একজন সন্তান ছিলেন ওসমান হাদি। তিনি ইনসাফ ও বৈষম্যবিরোধী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চিন্তা ধারণ করতেন। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে এই হত্যার বিচার করা হবে এবং তাঁর চিন্তাধারার পথেই দেশ এগিয়ে নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, ঝালকাঠি-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম, ঝালকাঠি-১ আসনের প্রার্থী ড. ফয়জুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, এবি শ্রমিক পার্টির যুগ্ম সমন্বয়ক শেখ জামাল হোসেন এবং এনসিপির উপপ্রধান সংগঠক ডা. মাহামুদা আলম মিতু।
জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারাও বক্তব্য দেন।
সমাবেশ শেষে জামায়াত আমির ঝালকাঠি-১ আসনে প্রার্থী ড. ফয়জুল হক এবং ঝালকাঠি-২ আসনে প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিমের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে তাঁদের জনতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এ সময় ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি উপহার হিসেবে গ্রহণ করে দুই কারিগরকে জড়িয়ে ধরে কুশল বিনিময় করেন তিনি এবং কিছুক্ষণ সেই শীতলপাটিতেই বিশ্রাম নেন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।