মরা চিত্রার বুকে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার শতাধিক শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী

লেখক: Arisha Eme
প্রকাশ: ২ মাস আগে
মরা চিত্রার বুকে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার শতাধিক শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী

চিতলমারী উপজেলা ও হালিশহর-সংলগ্ন রায়গ্রাম এলাকায় মরা চিত্রা নদীর ওপর নির্মিত একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই এখন দুই পাড়ের মানুষের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ দুই পাড়ের মানুষের জন্য নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর আগে এখানে একটি ব্রিজ ছিল। তবে কয়েক বছর আগে খাল পুনঃখননের সময় সেটি ভেঙে যায়। এরপর আর কোনো স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় এলাকাবাসী নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করেন। বর্তমানে সেটিই দুই পাড়ের মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিদিন কৃষক, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই সাঁকো ব্যবহার করেন। তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি পিচ্ছিল ও আরও নড়বড়ে হয়ে পড়ে, ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে।

রায়গ্রামের শিক্ষক বিকাশ মণ্ডল জানান, হালিশহর খালিশপুর এলাকার অনেক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। সামান্য অসাবধান হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

এলাকাবাসীর মতে, একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে। শিক্ষা, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি জরুরি রোগী পরিবহনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবায় দুর্ভোগ কমে আসবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, তিনি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সেতু নির্মাণকাজ শুরু করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

  • জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার শতাধিক শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী
  • মরা চিত্রার বুকে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো