রামিসা হত্যা মামলার রায় ৭ জুন, মাত্র চার কার্যদিবসে শেষ হলো বিচার

রামিসা হত্যা মামলার রায় ৭ জুন, মাত্র চার কার্যদিবসে শেষ হলো বিচার
রামিসা হত্যা মামলার রায় ৭ জুন, মাত্র চার কার্যদিবসে শেষ হলো বিচার
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার আলোচিত মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী রোববার (৭ জুন) দিন ধার্য করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে অন্যতম দ্রুততম সময়ে একটি স্পর্শকাতর হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হলো।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন।

এদিন সকাল থেকেই আদালত চত্বরে ছিল বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকাল ৯টার দিকে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে আনা হয়। পরে বেলা ১১টার পর বিচারক এজলাসে উঠলে মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, অভিযোগ গঠন থেকে শুরু করে সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও যুক্তিতর্ক—সব মিলিয়ে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হতে যাচ্ছে, যা দেশের বিচার ব্যবস্থায় এক নজিরবিহীন ঘটনা।

রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানায়, প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। তবে ঘটনার দিন তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি। ফলে সুস্থ মস্তিষ্কেই তিনি অপরাধটি সংঘটিত করেছেন বলে দাবি করা হয়।

ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, “এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি কার্যক্রমের ভিত্তিতে এমন একটি রায় আসবে, যা ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধীদের জন্য কঠোর বার্তা হয়ে থাকবে।”

অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় খরচে নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহ তার মক্কেলের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন জানান।

এর আগে বুধবার (৩ জুন) আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণের সময় প্রধান আসামি সোহেল রানা প্রথমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও পরে নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে বলেন, “ডলারকে ধরেন, আমি অপরাধ করেছি, তাকেও ধরেন।” তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে যুক্তি তুলে ধরে জানায়, সোহেল রানার ১৬৪ ধারার জবানবন্দি কিংবা তদন্ত নথিতে ‘ডলার’ নামে কোনো ব্যক্তির উল্লেখ ছিল না। শেষ পর্যায়ে এসে নতুন নাম যুক্ত করা বিচার প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত ও বিলম্বিত করার একটি কৌশল হতে পারে।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, “মূল জবানবন্দিতে এ নামের কোনো উল্লেখ ছিল না। শেষ মুহূর্তে এমন বক্তব্য বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা বলেই প্রতীয়মান হয়।”

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এরপর ১ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও যুক্তিতর্ক শেষ করে রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করায় মামলাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই প্রতিবেদনটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা পত্রিকায় প্রকাশের উপযোগী করে লেখা হয়েছে।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ