১৬ দিন হাসপাতালে পড়ে থাকার পর লাশ গেল সিএনজিতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য

লেখক: Arisha Eme
প্রকাশ: ৩ মাস আগে
১৬ দিন হাসপাতালে পড়ে থাকার পর লাশ গেল সিএনজিতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে এক নারীর মৃত্যুর পর তার মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার দৃশ্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দরিদ্রতার নির্মম বাস্তবতায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে না পেরে স্বজনরা সিএনজিচালিত অটোরিকশাতেই মরদেহ নিয়ে রওনা হন কসবার উদ্দেশে।

ঘটনাটি শুক্রবার (২৩ মে) ঘটেছে বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের কসবা উপজেলায় মরদেহ নিতে সিএনজির পেছনে দুই নারী ও এক কিশোরের পায়ের ওপর শুইয়ে রাখা হয় মৃত নারীর দেহ। চলন্ত গাড়ি থেকে মরদেহের পা বাইরে বের হয়ে যাচ্ছিল—যা উপস্থিত মানুষের মধ্যে গভীর বেদনা ও হতবাক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন প্রশ্ন তুলছিলেন—“এভাবে এত দূর কীভাবে মরদেহ নেওয়া হবে?”

এ সময় সিএনজি চালক, যিনি সম্ভবত পরিবারের পরিচিত ছিলেন, ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“এম্বুলেন্সে নিলে বাড়িঘর বেচতে হইবো নাকি! ১৬ দিন ধইরা হাসপাতালে পড়ে আছে, কেউ খবর নেয় নাই।”

জানা গেছে, মৃত নারীর স্বামীও আগে মারা গেছেন। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘटनাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এটিকে সমাজের বৈষম্য ও অসহায় মানুষের বাস্তবতার নির্মম প্রতিচ্ছবি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন—দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা একজন অসহায় রোগীর পাশে কেন কোনো সহায়তা পৌঁছায়নি।

মানবিক এই ঘটনাটি নতুন করে দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা ব্যয় ও মরদেহ পরিবহন সংকটের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে।

  • ১৬ দিন হাসপাতালে পড়ে থাকার পর লাশ গেল সিএনজিতে
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য