
পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিতে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার-এ বেড়েছে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। পরিবার-পরিজন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসছেন বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে। ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকেই সৈকত ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে দেখা গেছে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়।
লাবণী সৈকত, সুগন্ধা সৈকত এবং কলাতলী সৈকত-সহ বিভিন্ন সৈকত এলাকায় দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকদের পদচারণায় মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। কেউ সমুদ্রস্নানে মেতে উঠছেন, আবার কেউ বালুচরে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন।
পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রচণ্ড গরম ও অনিশ্চিত আবহাওয়ার কারণে আগাম বুকিং কিছুটা কম থাকলেও ঈদের পর থেকে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতেও সন্তোষজনক বুকিং রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও লাইফগার্ড সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
শাহপরীর দ্বীপ থেকে সমুদ্র, মিয়ানমারের পাহাড় এবং সেন্ট মার্টিন দ্বীপ-এর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করা যায়। নতুন সড়কটি পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
জাহাজপুরা গর্জন বন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য গন্তব্য। শতবর্ষী গর্জন গাছ আর সবুজ পরিবেশ ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করে।
স্বপ্নতরী পার্ক পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত একটি আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র, যেখানে প্রকৃতি ও স্থাপত্যের সুন্দর সমন্বয় দেখা যায়।
নিভৃতে নিসর্গ পার্ক-এ কায়াকিং, নৌভ্রমণ এবং লেক-পাহাড়ঘেরা মনোরম পরিবেশ পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক বাংলাদেশের প্রথম সাফারি পার্ক হিসেবে পরিচিত। এখানে মুক্ত পরিবেশে নানা প্রজাতির পশুপাখি দেখা যায়।
রামু বৌদ্ধ বিহার ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বসম্পন্ন একটি স্থান। এখানে রয়েছে বিশাল গৌতম বুদ্ধের মূর্তি এবং একাধিক প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির।
আদিনাথ মন্দির ধর্মীয় ও পর্যটন উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ একটি তীর্থস্থান।
সোনাদিয়া দ্বীপ লাল কাঁকড়া, কেয়াবন, ম্যানগ্রোভ বন এবং মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্তের জন্য প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
মেরিন ড্রাইভ দেশের অন্যতম সুন্দর সড়কপথ। এক পাশে সমুদ্র, অন্য পাশে পাহাড়—প্রকৃতির অপূর্ব সমন্বয়।
টেকনাফ জেটি এবং মাথিনের কূপ ইতিহাস ও সৌন্দর্যের অনন্য সমন্বয় হিসেবে পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
টেকনাফ ন্যাচার পার্ক সবুজ পাহাড়, জীববৈচিত্র্য এবং নিরিবিলি পরিবেশের কারণে প্রকৃতিপ্রেমীদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, সমুদ্রসৈকতের বাইরেও কক্সবাজারে ছড়িয়ে থাকা এসব প্রাকৃতিক, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় দর্শনীয় স্থান ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করছে। যথাযথ উন্নয়ন ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে বছরজুড়েই এসব স্থানে পর্যটকদের পদচারণা আরও বৃদ্ধি পাবে।
