গর্ভের শিশুর লিঙ্গ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা: নারীর অধিকার রক্ষায় ঐতিহাসিক রায় হাইকোর্টের

গর্ভের শিশুর লিঙ্গ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা: নারীর অধিকার রক্ষায় ঐতিহাসিক রায় হাইকোর্টের
গর্ভের শিশুর লিঙ্গ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা: নারীর অধিকার রক্ষায় ঐতিহাসিক রায় হাইকোর্টের
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

মায়ের গর্ভে থাকা শিশুর লিঙ্গ শনাক্ত ও তা প্রকাশ করা যাবে না বলে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন বাংলাদেশ হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, অনাগত শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা এবং সামাজিক ভারসাম্যহীনতা বাড়ায়, যা সংবিধান ও মানবাধিকারের পরিপন্থি।

বিচারপতি নাইমা হায়দার এবং বিচারপতি কাজী জিনাত হক-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ রায় ঘোষণা করেন। সোমবার (১১ মে) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, গর্ভের শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর মর্যাদা, সমতা এবং জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায়। একইসঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালারও লঙ্ঘন।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহির অভাব রয়েছে। শুধু গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি এবং কার্যকর তদারকি ছাড়া এই অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।

রায়ে আরও বলা হয়, নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত অনাগত শিশুর বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট সংরক্ষণ ও তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ গড়ে তোলা জরুরি।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-কে ছয় মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

হাইকোর্ট আরও বলেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য এবং সম্ভাব্য নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আদালত উল্লেখ করেন, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

রায়ে আদালত এ নির্দেশনাকে “continuous mandamus” হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতেও নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়টি আদালতের তদারকির আওতায় থাকে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি গর্ভের শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ বন্ধের দাবিতে জনস্বার্থে রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। তাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ