শবে বরাত: মুক্তির রজনীতে ইবাদত, তওবা ও ক্ষমার অনন্য সুযোগ

শবে বরাত: মুক্তির রজনীতে ইবাদত, তওবা ও ক্ষমার অনন্য সুযোগ
শবে বরাত: মুক্তির রজনীতে ইবাদত, তওবা ও ক্ষমার অনন্য সুযোগ
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

শবে বরাত বা ‘মুক্তির রজনী’ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক মহিমান্বিত ও তাৎপর্যপূর্ণ রাত। ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি—ফার্সি এই শব্দযুগলের অর্থ মিলিয়েই শবে বরাতের তাৎপর্য ফুটে ওঠে। হিজরি শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী এই রাত ‘লাইলাতুল নিসফি মিন শাবান’ নামেও পরিচিত। ইসলামী বর্ণনায় এই রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য বিশেষ রহমত ও মাগফিরাতের দরজা খুলে দেন, গুনাহ ক্ষমা করেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন—তাই এ রাত পরিচিত ‘মুক্তির রাত’ হিসেবে।

হাদিসে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। ইবনে হিববান ও ইবনে মাজাহসহ বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে এই রাতের মর্যাদা ও ক্ষমা লাভের ফজিলতের কথা উল্লেখ রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন মধ্য শাবানের রাত আসে, তখন তোমরা রাতে ইবাদত করো এবং দিনে রোজা রাখো। কারণ আল্লাহ এই রাতে সূর্যাস্তের পর থেকে শেষ রাত পর্যন্ত দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং বলেন—কেউ কি আছে যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো? কেউ কি আছে যে রিজিক চাইবে, আমি তাকে রিজিক দেবো? কেউ কি আছে যে বিপদে আছে, আমি তাকে মুক্তি দেবো?—এভাবে ফজর পর্যন্ত তিনি ডাকতে থাকেন।”

এই রাতে মুসলমানরা নফল ইবাদত, দোয়া ও তওবায় মশগুল থাকেন। দলবদ্ধ ইবাদতের চেয়ে একা একা, একান্তভাবে আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া উত্তম বলে মনে করা হয়। অনেক অঞ্চলে মৃত পূর্বপুরুষদের জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনাও করা হয়।

শবে বরাতে আদায়কৃত সব ইবাদতই নফল। এ রাতে নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, তওবা-ইস্তেগফার, দরুদ পাঠ, তাসবিহ-তাহলিল, তাহাজ্জুদ, সালাতুত তাজবিহ, সালাতুল হাজাতসহ বিভিন্ন নফল ইবাদত করা যায়। নফল ইবাদতের মধ্যে নামাজকেই সর্বোত্তম বলা হয়েছে। তবে এ রাতের জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট নামাজের নিয়ম বা বিশেষ নিয়ত নেই—অন্যান্য নফল নামাজের মতোই স্বাভাবিক নিয়মে দুই রাকাত করে পড়া যায়। মাগরিবের পর হায়াতের বরকত ও ঈমানের হেফাজতের জন্য ছয় রাকাত নফল নামাজ পড়ার প্রচলনও রয়েছে।

এ ছাড়া বিতর নামাজ ইশার পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত যেকোনো সময় আদায় করা যায়। শবে বরাতের পরের দিন, অর্থাৎ ১৫ শাবান নফল রোজা রাখাও অনেকের কাছে জনপ্রিয় আমল।

সব মিলিয়ে শবে বরাত মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, ক্ষমা প্রার্থনা এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য সুযোগ—যেখানে ইবাদত, দোয়া ও তওবার মাধ্যমে একজন বান্দা নতুন করে ফিরে যেতে পারেন তাঁর প্রভুর কাছে।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ