মঈনউদ্দিন মনি, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : ২৩ সেপ্টেম্বরকে ‘মহাপ্রলয়ংকর আঁধার দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে দিনটি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রবর্তক আল্লামা ইমাম হায়াত। তাঁর দাবি, ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর কেবলাভূমি আল আরবে সৌদি রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলাম, মুসলিম মিল্লাত ও মানবতার ওপর একটি ‘অন্ধকার অধ্যায়ের’ সূচনা হয়।
বুধবার দেওয়া এক বক্তব্যে আল্লামা ইমাম হায়াত সৌদি রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ওয়াহাবি মতাদর্শের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, আল আরবকে ‘সৌদি আরব’ নামে অভিহিত করা ইসলামের মূল চেতনা ও মানবিক সাম্যের পরিপন্থী। তাঁর ভাষায়, কেবলাভূমি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি সমগ্র মুসলিম মিল্লাতের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র।
বক্তব্যে তিনি হাদিসের একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করে বলেন, ‘আরবের নজদ থেকে বের হবে শয়তানের শিং ও ভূমিকম্প।’ তিনি এ বক্তব্যের ব্যাখ্যায় ‘শয়তানের শিং’কে বাতিল ও জালেম অপশক্তির প্রতীক এবং ‘ভূমিকম্প’কে দ্বীন, মিল্লাত ও মানবতার জন্য ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।
আল্লামা ইমাম হায়াতের অভিযোগ, সৌদি রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে কেবলাভূমিতে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, যা তাঁর মতে গোত্রবাদ, মুলুকিয়ত ও স্বৈরতন্ত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি সৌদি রাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করতে গিয়ে ফিলিস্তিন, লেবানন, ইয়েমেন, সিরিয়া, লিবিয়া, আফগানিস্তান ও ইরাকসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাতের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, কেবলাভূমি মক্কা ও মদিনার কারণে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের কাছে বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে। তাঁর মতে, এই ভূখণ্ডে সত্য, মানবিক সাম্য ও স্বাধীনতার ভিত্তিতে একটি সর্বজনীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। তিনি এ ব্যবস্থাকে ‘খেলাফতে ইনসানিয়াত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের শেষদিকে আল্লামা ইমাম হায়াত কেবলাভূমিকে ‘সৌদি আরব’ না বলে ‘আল আরব’ বলার আহ্বান জানান এবং ২৩ সেপ্টেম্বরকে ‘Dark Days’ বা ‘ইয়াওমুজ জুলুমাত’ হিসেবে পালনের জন্য তাঁর অনুসারীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি এটিকে দ্বীন, মিল্লাত ও মানবতার মর্যাদা ও স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।